রিজেন্ট গ্রুপের জনসংযোগ কর্মকর্তা ছিলেন আরেফিন সোহাগ। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করার সময় সাহেদের নানা অপকর্ম নিজ চোখে দেখেছেন তিনি। ঠিকমতো বেতন না পাওয়াসহ নানা কারণে রিজেন্টে চাকরি করতে চাননি সোহাগ। সাহেদের সঙ্গে বিরোধের জেরে একদিন আরেফিন সোহাগকে উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়ে টানা আট ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এরপর সোহাগ রিজেন্টের চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে যান। পরে সোহাগের নামে চারটি মামলা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রিজেন্টের সাহেদ নিজে বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় সোহাগের নামে প্রতারণার মামলা করেন। সেই মামলায় সোহাগ ছাড়াও তাঁর মা–বাবাকে আসামি করা হয়। সাহেদের ভয়ে সোহাগ ঢাকা ছেড়েছেন।সাহেদ আরেফিন সোহাগ বলেন, ‘সাহেদের নতুন কাগজ পত্রিকায় একজন রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করি ২০১৪ সালে। এরপর আমাকে সাহেদ সাহেব, প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন। পাশাপাশি আমি তাঁর পিএস হিসেবেও কাজ করতাম। নিজের চোখে দেখেছি সাহেদের অনেক প্রতারণা। কাজ করলেও ঠিকমতো বেতন দিতেন না তিনি। নিজের চোখের সামনে দেখেছি, সাহেদ সাহেব স্টাফদের বেল্ট খুলে মারতেন। নানা প্রতারণা আর ঠিকমতো বেতন না পেয়ে আমি রিজেন্ট থেকে চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিই। এতে ক্ষিপ্ত হন সাহেদ সাহেব। একদিন আমাকে উত্তরা পশ্চিম থানায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। আমি চাকরি ছেড়ে দিই। এরপর সাহেদ সাহেব আমার নামে একে একে চারটি মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। একটি মামলায় আমার মা–বাবাকেও আসামি করেছেন তিনি। সেই মামলায় আজও আমি ঘুরছি। আমাকে একাধিক দিন হত্যার হুমকিও দিয়েছেন সাহেদ। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা সাহেদের পুরোনো স্বভাব।’
আরেফিন সোহাগের মতো আরেকজন ভুক্তভোগী হলেন আনোয়ার হোসেন। তিনি উত্তরার হোটেল মেলিনার মালিক। গত বছরের ২ নভেম্বর মাসে হোটেলটি ভাড়া নেন সাহেদ। মাসে সাড়ে সাত লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে হোটেল মালিক আনোয়ারের সঙ্গে সাহেদের চুক্তি হয়। হোটেল ভাড়া নেওয়ার পর বদলে যান সাহেদ। মিথ্যা প্রতারণার অভিযোগ এবার সাহেদ হোটেল মালিক আনোয়ারের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলা করেন। সেই মামলায় আদালত থেকে আনোয়ারের বিরুদ্ধে পরোনায়া জারি হয়। পাশাপাশি সাহেদ আনোয়ারের বিরুদ্ধে ঢাকার দেওয়ানি আদালতে আরেকটি মামলা করেন। ভুক্তভোগী আনোয়ার বলেন, ‘সাহেদ যে কত ধুরন্ধর ব্যক্তি, সেটি আমি হাড়ে হাড়ে এখন টের পাচ্ছি। প্রতি মাসে সাড়ে সাত লাখ টাকা ভাড়া দেওয়ার কথা বলে সাহেদ আমার হোটেল ভাড়া নেন। ভাড়া নেওয়ার পর সাহেদ আমার নামে একের পর এক মামলা দিতে থাকেন। সেই মামলায় আমি আদালতে আদালতে ঘুরছি। সাহেদ আমাকে একাধিকবার হুমকি দিয়ে বলেছেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমাকে হত্যা করবেন। ঢাকায় আমাকে থাকতে দেবেন না। আমি সাহেদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে গেলে থানা আমার মামলা নেয়নি। একটা জিডি নিয়েছিল, কিন্তু সাহেদ আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন, সেই কথা জিডিতে লেখা যাবে না। আমার সেই কথা কেটে দিতে হয়েছে।’
সাহেদ যে আনোয়ারকে হুমকি দিয়েছেন, তার স্বাক্ষী সাহেদের প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফিফ বাবু। তিনি বলেন, সাহেদ আনোয়ার হোসেনকে হুমকি দিয়েছিল। সাহেদ যে কেবল আনোয়ারকে হুমকি দিয়েছেন তা নয়, আনোয়ারের মতো আরও অনেককে সাহেদ হুমকি দিতেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতেন।
রিজেন্ট হাসপাতালে করোনার ভুয়া নমুনা জালিয়াতির মামলায় সাহেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর আনোয়ার সাহেদের বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব থানায় গত সপ্তাহে মামলা করেছেন।