রাজীবুল হাসান, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসবাস করার অভিযোগে শর্টফিল্মের দুই মডেল যুবক যুবতীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের নিউ টাউন এলাকার একটি বাসা থেকে ভৈরব থানার এসআই রাসেল মিয়া তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
আটককৃত রুমানা ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বাহাদুরপুরের রমজান মিয়ার মেয়ে এবং নাহিদ চৌধুরী নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ির সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে। তারা দুজনে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে নিউ টাউন এলাকার হাবিবুল মিয়ার বাসায় ১ বছর ধরে ভাঁড়া থাকতেন।
এসআই রাসেল মিয়া জানান, মডেল রুমানা ইসলামের অভিযোগের ভিত্তিতে নিউ টাউনের একটি বাসা থেকে তাদের দুজনকেই আটক করা হয়। দুপক্ষেরে অভিভাবকগণ আজ বুধবার সকালে থানায় এসে তাদের অপকর্মের কথা শুনে তাদেরকে নিয়ে যেতে দুপক্ষই অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ দুপুরে অসামাজিক কর্যাকলাপে আটক দেখিয়ে রুমানা ও নাহিদকে কোর্টে প্রেরণ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভৈরবে গত কয়েক বছর ধরে নাটক ও শর্টফিল্মের আঁড়ালে কথিপয় মডেলদের এ ধরণের অনৈতিক কাজের ঘটনা আরো বহুবার ঘটেছে। নাটক ও শর্টফিল্ম তৈরির নামে কথিপয় মডেল নারীরা ভৈরবের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে দেহ ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উঠতি বয়সের মডেলরা বাড়তি রোজগারের আশায় একাধিক পুরুষের শয্যা সঙ্গী হচ্ছে তারা। বৈধ স্বামী-স্ত্রী না হয়েও বেশিরভাগই মডেলরাই ভৈরবের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে কৌশলগত কারণে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে শর্টফিল্ম নির্মাণ করেন একটি চক্র তাদের নানা অপকর্ম আড়াল করতে কৌশলে আইনশঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকে তাদের নাটক ও শর্টফিল্মে অভিনয়ে সম্পৃক্ত করছেন। তাদের প্রস্তাবে সাঁড়া দিয়ে আইনশঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাদেরও শর্টফিল্মের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে চক্রটি নির্ভয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে গেলেও কেউ কথা বলার সাহস পাচ্ছে না। মডেল রুমানা ও নাহিদ আটকের পর শর্টফিল্ম ও নাটকে তাদের অভিনয় করার অন্তরালে এসব অপকর্মের ঘটনায় বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ভৈরবের সচেতন মহলের মাঝে।