জার্মান-বাংলা ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের দেশ ছাড়তে তাদের যেভাবে ওপর অত্যাচার, নির্যাতন এবং নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে মিয়ানমারের কট্টরপন্থি বৌদ্ধ গোষ্ঠি তার প্রতিবাদ বিশ্বব্যাপী চলছে। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকও। ফেসবুকে রোহিঙ্গাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক পোস্ট সরাতে বিশেষভাবে কাজ করেছে মিয়ানমার উগ্রবাদ বৌদ্ধ সম্প্রদায়। এ কারণে ফেসবুক মিয়ানমারের কট্টরপন্থি বৌদ্ধ গোষ্ঠীকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ সাইটটিতে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। ফেসবুক গত বৃহস্পতিবার (৭ জুন) এই তথ্য জানিয়েছে৷
মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকের ব্যবহারকারী৷ সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, মিয়ানমার থেকে ফেসবুকে এখন অবধি ১৮ মিলিয়ন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যেখানে দেশটির মোট জনসংখ্যা ৫০ মিলিয়নের মতো৷
বৌদ্ধপ্রধান দেশটির এত মানুষ ফেসবুকে উপস্থিত থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি সেদেশে ফেসবুকের অপব্যবহার রোধে বিশেষ সক্রিয় ছিল না৷ সম্প্রতি জাতিসংঘের তদন্তকারীরাও জানিয়েছেন, দেশটিতে নানা অপপ্রচারমূলক কর্মকাণ্ডে ফেসবুক ব্যবহার করা হচ্ছে৷ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উস্কানি দিতে ব্যাপকহারে ব্যবহার করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ সাইটটি৷
গত কয়েক বছর ধরে ফেসবুকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে নানা বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালানোর পর গত বছর সংখ্যালঘু গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে এক সেনা অভিযান শুরু হলে অন্তত সাত লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য ছেড়ে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়৷ সেই অভিযানে অনেক রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে৷
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত নেতিবাচক প্রচারণায় ফেসবুকের ব্যবহারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনায় আসার পর অবশ্য টনক নড়েছে প্রতিষ্ঠানটির৷ চলতি সপ্তাহে দেশটিতে ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি মানা হচ্ছে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য অভিযানে নেমেছে প্রতিষ্ঠানটি৷ ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর দায়ে কট্টরপন্থি বৌদ্ধদের গোষ্ঠী ‘মা বা থা’ এবং পারমাউক্খা ও থুসেইত্তা নামের দুই উগ্রপন্থি বৌদ্ধ ভিক্ষুকে ফেসবুকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷
ফেসবুকের কন্টেন্ট পলিসি ম্যানেজার ডেভিড কারাগ্লিয়ানো এই বিষয়ে বলেন, ‘‘তাদের ফেসবুক ব্যবহারের কোনো অধিকার নেই এবং অন্য কেউ যদি তাদের পক্ষে কোনো কিছু ফেসবুকে পোস্ট করে, তাহলে তাদেরও প্লাটফর্মটিতে নিষিদ্ধ করা হবে৷’’