শিরোনাম :
সংস্কার ও উন্নয়ন উদ্যোগের দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরে সরকারের অগ্রগতির চিত্র ভারত থেকে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত, এপ্রিলে ১৩ হাজার টন ডিজেল দেশে প্রবেশ মার্কিন প্রস্তাবে সাড়া নয়, শর্ত না মানলে আলোচনায় নয় গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি প্রাণহানি, উদ্বেগে জাতিসংঘ  নিম্ন-কার্বন প্রযুক্তিতে গার্ডেন এক্সপোর বিশেষ গুরুত্ব চীনা ভাষার প্রসারে বৈশ্বিক উদ্যোগ চার দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় সি’র কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত সুরক্ষা ও বিজিবির অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দিনাজপুরের বিরলে নতুন বিওপি উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সুষম উন্নয়নে সমতলের সাথে সমভাবে এগোবে পাহাড়:পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

বাংলাদেশে সকালের ভূমিকম্পে আতঙ্ক; দেশজুড়ে প্রাণহানি ও ক্ষতির শঙ্কা বৃদ্ধি

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫

আজ সকালেই সারা দেশে অনুভূত হয়েছে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, যার কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর মাধবদী অঞ্চলে। সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শক্তিশালী কম্পন মানুষকে আতঙ্কিত করে তোলে। হঠাৎ ভবন কাঁপতে শুরু করলে অনেকেই ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল থেকে ছুটে খোলা স্থানে বের হয়ে আসেন। ভূমিকম্পের তীব্রতায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ছন্দপতন ঘটে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঢাকার বংশালের কসাইটুলী এলাকায় একটি ভবনের রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে কয়েকজন গুরুতরভাবে আহত হন, যার মধ্যে দুইজন পরবর্তীতে মারা যান বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। ঢাকা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলে পৃথক দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ এখনো পাওয়া যায়নি, উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলগুলোতে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ নগরে দুর্বল ভবন কাঠামো ও পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। ভূমিকম্পে প্রাণহানির বড় একটি কারণ হলো এসব কাঠামোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা। নগর অধ্যয়নবিদদের মতে, নিয়মিত ভবন কাঠামো পরীক্ষা, মানসম্মত নির্মাণ নীতি মেনে চলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণেই বড় ধরনের ক্ষতি কমানো সম্ভব।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষ দাবি তুলেছেন—প্রতিটি ভূমিকম্পই আমাদের দুর্বলতা ও প্রস্তুতির অভাবের দিকে ইঙ্গিত করে। বিভিন্ন এলাকায় ভবনগুলো জরাজীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সেগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরিদর্শনও হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। আজকের ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল যে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকলে তুলনামূলক মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও প্রাণহানি ঘটতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনগণকে শান্ত থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দেশজুড়ে আজ সকালের কম্পন সবাইকে আবারও মনে করিয়ে দিল—ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও এর প্রভাব কমানো সম্পূর্ণই মানবিক প্রস্তুতি ও দায়িত্বশীলতার ওপর নির্ভরশীল। নিরাপদ ভবন নির্মাণ, কার্যকর নগর পরিকল্পনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এমন ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD