বাংলাদেশের আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, টেলিযোগাযোগ ও গবেষণাভিত্তিক অংশীদারিত্ব আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যা-মার্ক সেরে-শার্লের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় উঠে আসে।
বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। এ সম্পর্কের ভিত্তিতে ডিজিটাল প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
তিনি জানান, সরকার বর্তমানে দেশের প্রয়োজনের আলোকে একটি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। এ ধরনের স্যাটেলাইট দুর্যোগ মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন পর্যবেক্ষণ, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এ প্রকল্পে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান হতে পারে। দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যা-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, বাংলাদেশের আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট কর্মসূচিতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়নে ফ্রান্স কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, এ প্রযুক্তি কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ভূমি ও নগর পরিকল্পনা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক নজরদারির মতো বিভিন্ন খাতে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, স্যাটেলাইট প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণা পরিচালনা এবং দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে ফ্রান্স সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করে বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, বাংলাদেশে এয়ারবাসের প্রধান প্রতিনিধি রাফায়েল গোমেজ এবং বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।