সিরাজগঞ্জ থেকে এইচ এম আলমগীর কবির: যেমন সবুজ শ্যামলে ভরা আমাদের এই দেশ। নদী আর খালবিলে ভরা আমাদের বাংলাদেশ। বাংলাদেশের নদীর বা খাল বিলের পাশেই গড়ে উঠেছে হাট-বাজার, শহর, বন্দর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঠিক এমনি একটি দৃশ্য চোখে পড়ে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলায় নলকা ইউনিয়নে ফুলজোর নদীর দুই পাশে। রয়েছে ১৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নলকা ইউনিয়নকে দুই ভাগে ভাগ করে বয়ে গেছে ফুলজোড় নদী। নদীর পাড় ঘেষে পশ্চিম পাশ দিয়ে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক। পুর্ব পাশে রয়েছে নদী।
এই ইউনিয়নবাসীর একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে সাহেবগঞ্জ ও কেসি ফরিদপুর খেয়াঘাট। ৭০০ মিটার প্রস্থের এই নদীর পাড়ি দিতে এক সময় নৌকায় খেয়া বসানো হতো। খেয়া পারাপারে অনেক সময় নষ্ট হয় বলে সেমাউল উংডং নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয় একটি এনজিওর সহযোগিতায় নির্মান করেছিল ৭০০ মিটার দীর্ঘ এই বাঁশের সাঁকো। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এই স্থানটিতে একটি সেতু নির্মানের দাবী করে আসলেও তা ৪ যুগেও পূরন হয়নি।
নদীর পুর্বপাশে রয়েছে, চর ফরিদপুর, পুর্ব ফরিদপুর, আঙ্গারু, বিষ্ণপুর, কাঠালবাড়ি, বোয়ালিয়ার চর, রামপুর, চরগাতী, সেনগাতী, ঝাকড়ি, হাটকান্দা, এরান্দহ, মনোহরপুর, রামপুর, মথুরাপুর ও চররগুনাথপুর গ্রাম। পশ্চিমপাশে অবস্থিত সাহেবগঞ্জ দাদপুর, রায়েরপাড়া, আলমচাদপুর, শেওড়াবাড়ি, মোহৎপুর, দত্তকুশা, কালিপুর ও দাসপাড়া গ্রামের লোকজন প্রতিদিন এই সার্কো দিয়ে চলাচল করছে। ২৫ টি গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। আর এখান দিয়েই প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার লোক যাতায়াত করে থাকে।
সেমাউল উংডং সংগঠনটির সভাপতি রনজিৎ কুমার বলেন, দু:খ কষ্ট লাঘব করতে সবার সহযোগিতা নিয়ে গত বছর ২লাখ ৬০হাজার টাকা ব্যায়ে সাঁকোটি নির্মান করা হয়েছে। এখন বাঁশের সেতুটি নরবরে হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ওই বাঁশের সাঁকো দিয়েই নলকা ইউনিয়নের ২৫ গ্রামের জনসাধারন ও ১৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে।
এ বিষয়ে কথা হয় নলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের সাথে তিনি বলেন, বার বার সেতু নির্মানের বিষয়টি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হয়েছে। তবে কোন কাজে আসেনি।
এ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গাজী ম,ম আমজাদ হোসেন মিলন বলেন, সাহেবগঞ্জ-কেসি ফরিদপুরে ফুলজোড় নদীর উপর সেতু নির্মানের জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের নিকট একটি সেতুর দাবি করে আসলেও আজও তা পূরন হয়নি। দ্ররুত এই সেতুটি নির্মানের জোর দাবী জানান ভুক্তভোগীরা।