পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রকৃত চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেছেন, উন্নয়নের নামে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ না করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলবে—এমন বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণই সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চলমান ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট এখনো একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় নারীদের পানি সংগ্রহে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাঙ্গামাটির একটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের নিচে নেমে পানি সংগ্রহের বিষয়টি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয় মানুষের কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। তাই কৃষি, ফল সংরক্ষণ, কোল্ড স্টোরেজ, ড্রাই ফ্রুটস প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে—এমন প্রকল্পে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নারী ও শিশুদের কল্যাণে পাড়াকেন্দ্রে উন্নত স্যানিটেশন, মেয়েদের জন্য উপযোগী শিক্ষা পরিবেশ এবং আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন মডেল পাড়াকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্যাটেলাইটভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলে দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি দূর করা সম্ভব। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে খেলাধুলার অবকাঠামো গড়ে তুলে তরুণদের বিকাশের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও তিনি জোর দেন।
সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা, কোল্ড স্টোরেজ ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি এসডিজি বাস্তবায়নে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নেরও পরামর্শ দেন।
সভায় বিভিন্ন চলমান অবকাঠামো, কৃষি, সড়ক, সামাজিক সেবা এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সূত্র: বাসস