জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের সালবাও মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ‘নিস্বন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ফোরাম’ আয়োজিত জমকালো গজল সন্ধ্যা। প্রেম ও সুরের এই আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত দেশবরেণ্য গজল ও সেমি-ক্লাসিক্যাল শিল্পী আরিফুল ইসলাম মিঠু।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব ছিল সাংগঠনিক অংশ। সংগঠনের বিশেষ সদস্যরা মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন এবং সম্প্রতি আইওএমপি কর্তৃক ২০২৫ সালের হ্যারল্ড জোন্স মেডেল অর্জনকারী প্রফেসর ড. গোলাম আবু জাকারিয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে শিল্পী আরিফুল ইসলাম মিঠুকে পুষ্পস্তবক দিয়ে বরণ করে নেয় আয়োজকেরা।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন কবি শাহীন হাসান, যিনি ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোক্তা। বক্তব্য দেন দার্শনিক, কবি ও শিল্প-সমালোচক ড. প্রভু মজুমদার, প্রফেসর ড. গোলাম আবু জাকারিয়া, লেখক ও প্রকৌশলী আনিস হক, গীতিকার সুরঞ্জন তরফদার এবং নিস্বনের প্রাক্তন সম্পাদক কামরুজ্জামান।
এরপর শুরু হয় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনা। মিতালী মুখোপাধ্যায়, নিম্মি কাদির ও শিউলি ফিরোজ তাঁদের কণ্ঠে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।
মূল আকর্ষণ ‘গজল সন্ধ্যা’-তে মঞ্চে আসেন আরিফুল ইসলাম মিঠু। তিনি একে একে পরিবেশন করেন বহু জনপ্রিয় গজল- ‘রাফতা রাফতা’, ‘চুপকে চুপকে’-সহ নানা সেমি-ক্লাসিক্যাল সংগীত। শ্রোতারা করতালিতে মুখরিত করে তোলেন হলরুম। বিরতির পর গান পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পী সুজন ও সবুজ ভাই।

দ্বিতীয় দফায় আবার মঞ্চে আসেন মিঠু এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন। কবি শাহীন হাসান তাঁর গায়কীর প্রশংসা করে বলেন,“তাঁর অনবদ্য গায়কী ও সুরেলা উপস্থাপনা শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। তিনি নিঃশব্দে এগিয়ে চলেছেন বিশ্ব সংগীতের মোহনায়।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড. আব্দুল হাই, হাবিবুল্লাহ বাবুল, রিয়েল আনোয়ার, সেলিম ভাই, আমানুল্লাহ ইসলামসহ বহু গুণীজন।অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন সাংবাদিক ফাতেমা রহমান রুমা ও রাকিব উল্লাহ।ফ্রাঙ্কফুর্টের গজল সন্ধ্যা হয়ে উঠেছিল এক অনন্য সুর ও শিল্পের মহোৎসব।