খুলনার পাইকগাছায় ঘের ব্যবসায়ী সালাম গাজী (৫৫) কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় কপিলমুনি প্রেসক্লাবে কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ও দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার কপিলমুনি প্রতিনিধি সাংবাদিক এস এম আব্দুর রহমানকে এজহার ভুক্ত আসামী ও তদন্ত ছাড়ায় আটক করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাইকগাছা উপজেলা সাংবাদিক জোট।
হত্যার নেপথ্যের কারণ হিসাবে সালামের পরকীয়া জড়িত এবং ঘটনায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করে থানা পুলিশ। অথচ অধিকতর তদন্ত না করেই হত্যা মামলায় সাংবাদিক এস এম আব্দুর রহমানকে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, একজন মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করা সাংবাদিকদের কাজ হতে পারে না। তাছাড়া ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুরত্বে অবস্থিত সাংবাদিক রহমানের বাড়ি উপজেলার কপিলমুনিতে। সাংবাদিক এস এম আব্দুর রহমান কপিলমুনি বাজারে আড়তদারী ব্যাবসা করেন। যা পুলিশ তদন্ত করলেই প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হতো। সাংবাদিকরা বলেন, আমরা চাই নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হোক। তবে এই মামলায় যেন কোন নিরীহ ব্যাক্তি হয়রানীর শিকার না হয়। সাংবাদিক রহমান এজাহার ভুক্ত আসামী হলেও ব্যবসায়ীক দ্বন্দের কারনে এজহারে তার নাম এসেছে কি না তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান সাংবাদিকরা।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২০ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯ টায় উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের পূর্ব গজালিয়া গ্রামের একটি রাস্তার উপর দুবৃত্ত্বদের হামলায় নিহত হন এলাকার মৃত মোহর আলী গাজীর ছেলে সালাম গাজী (৫৫) । এ সময় তারা সালাম গাজীকে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে চলে যায়। তিনি পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন।
পরে এলাকাবাসী থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক আব্দুর রহমান কে এজহার ভুক্ত আসামী করা হয়েছে। ঠিক কি কারণে তাকে এজহারভুক্ত আসামী করা হয়েছে তার কোন উত্তর নেই সাংবাদিক পরিবারের কাছে।
এদিকে পারিবারিক ভাবে জানানো হয়েছে সাংবাদিক আব্দুর রহমানের কপিলমুনি বাজারে আড়তদারী ব্যবসা রয়েছে। সে পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকায় আড়তের মালামাল সরবরাহ করতো। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক আব্দুর রহমান কে মামলায় আসামী করা হতে পারে বলে সাংবাদিক পরিবারের দাবী। অথচ অধিকতর তদন্ত না করেই সাংবাদিক এস এম আব্দুর রহমান কে আটক করে একটি হত্যা মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ সহ সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সাংবাদিক পরিবার।