আসাদুজ্জামান চৌধুরী কাজল, নোয়াখালী প্রতিনিধি:নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর টাউন হল মোড়ে একটি জাতীয় দৈনিকের (দৈনিক যুগান্তর) জেলা প্রতিনিধি মো. হানিফের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৬ মে) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে সাংবাদিকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে এ ভাঙচুর করে।
মো. হানিফ জানান, বিকালে তিনি টাউন হলে পশ্চিম পাশে ফ্ল্যাট রোডের দোতলা ভবনের অফিসে বসে নিউজ লিখছিলেন। এ সময় তার অফিসের কম্পিউটার অপারেটরসহ আরো দু-তিনজন উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ চারজন দুর্বৃত্ত তার অফিসে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে একজন মুখোশ পরা, একজনের মাথায় হ্যালমেট ছিল। অপর দুইজনের মুখ খোলা ছিল। দুর্বৃত্তরা অফিসে ডুকেই একজন তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। অন্যরা অফিসে থাকা একটি কম্পিউটার, চেয়ারসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ভাঙচুর করে দ্রুত চলে যায়।
স্থানীয়রা জানান, শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা টাউন হল। এখানে ২৪ ঘন্টাই মানুষের যাতায়াত। তাছাড়া এই ফ্ল্যাট সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন গণমাধ্যমের অন্তত ৬টি জেলা কার্যালয় রয়েছে। ঘটনার সময় একটি সিএনজি ওই সাংবাদিকের অফিসের নিচে অবস্থান করে এবং সিএনজি থেকে কয়েকজন যুবক উপরে যায়। কিছুক্ষণ পরে তারা তড়িগড়ি করে দোতলা থেকে নেমে আসে। খবর পেয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম, সুধারাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন, ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তাঁর সহকর্মিরা।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আসামীদের গ্রেফতারে দ্রুত অভিযান চালানো হবে। তাঁর দৃষ্টিতে সংক্ষুবদ্ধরা এ হামলা চালাতে পারে। ঘটনার বিষয়ে মো. হানিফকে থানায় অভিযোগ দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
উল্লেখ, গত ১৯ মে শুক্রবার দিনের বেলায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবের বর্ধিত ভবনের দ্বিতীয় তলায় এক সাংবাদিক ও পাটিসিপেটরো রিচার্জ এ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান) নামে একটি গবেষণামূলক এনজিও অফিসে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরের দল ভ্যানটিলেটর ভেঙে অফিস দুটিতে প্রবেশ করে। এর মধ্যে প্রানের অফিস থেকে ৪টি ল্যাপটপ, একটি মনিটর, নগদ ২৪ হাজার টাকা, দুটি এক্সট্রা হার্ডডিস্ক চুরে করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় একটি মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারিনি এবং কোনো মালামালও জব্দ করতে পারেনি।