আসাদুজ্জামান চৌধুরী কাজল, নোয়াখালী প্রতিনিধি:নোয়াখালীর সেনবাগে চাঁদা না পেয়ে ঘর বাড়ি ভাংচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার সহ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা মালামাল লুট করে নিয়েগেছে বহিষ্কৃত শিবির নেতা জাবেদ বাহিনীর লোকেরা। এই ঘটনায় পুলিশ ২জনকে আটক করেছে।
আটকরা হলেন কাদরা গ্রামের মৃত মোস্তফা মাষ্টারের ছেলে লিটন (২০), একই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে রিয়াদ (২১)। শুক্রবার (৩ মে) সকাল ১১টার দিকে সেনবাগ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড এলাকার দক্ষিণ কাদরা গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এ দিকে হামলার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিনহাজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) মোঃ শাহ জাহান শেখ, সেনবাগ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার স্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কাদরা গ্রামের প্রবাসী গোলাম মাওলার (বাবুল) স্ত্রী হালিমা খাতুনের কাছে স্থানীয় কাদরা হামিদিয়া মাদ্রাসা শাখা ছাত্রশিবের সাবেক বহিষ্কৃত নেতা নুর মোহাম্মদ জাবেদ ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুক্রবার সকাল ১১ টারদিকে তার বাহিনীর ২০-৩০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে হালিমা খাতুন (৩৬), তার মেয়ে মীম (১৭) ও মিলিকে আহত করে।
এ সময় সন্ত্রাসীরা তাদের ঘরে থাকা সাড়ে ১০ ভরি স্বর্ণ, নগদ দেড় লক্ষ টাকা, ১টি ফ্রিজসহ মূল্যবান বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এই বাহিনী।
খবর পেয়ে সেনবাগ থানা পুলিশ ঘটনার স্থলে পৌঁছলে জাবেদসহ তার সহযোগীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ লিটন ও রিয়াদকে আটক করে।
স্থানীয়রা আরো জানায়, জাবেদ দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যার ভয়ে কেউ কথা বলার সাহস পায় না।
এ বিষয়ে প্রবাসী গোলাম মাওলার স্ত্রী হালিমা খাতুন জানান, জাবেদ সম্পর্কে আমার ভাগিনা হয়। আমার শ্বশুরের সম্পত্তি নিয়ে গোলাম মাওলা বাবুলের ভাইদের মাধ্যে মধ্যে বিরোধ চলছে। সে মিমাংশা করবে বলে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছে। আমি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সে আমাকে হুমকি প্রদান করে বলে ছাত্রলীগ সম্পর্কে জানা আছে তো? না হয় বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দিবো।প্রশাসন আমাদের হাতে।
এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ জাবেদকে ফোন করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন।