নিজস্ব প্রতিবেদক:দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান পরিচালনা করে ভবন নির্মাণে তদারকিতে রাজউকের অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে । দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে অভিযোগ আসে, “ডি বিল্ডার্স অ্যান্ড প্রোপার্টিস লিমিটেড” নামক একটি ডেভেলপার কোম্পানি কর্তৃক মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে রাজউকের বিধি লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে।
দুদক টিম রাজউক জোন-৩ এর কর্মচারীদের সমন্বয়ে ভবনটি পরিদর্শন ও পরিমাপ করে অভিযোগের সত্যতা পায়। ভবনটি নির্মাণে রাজউকের নকশার বেশ কিছু ব্যত্যয় ঘটেছে মর্মে টিমের নিকট পরিলক্ষিত হয়। দেখা যায়, ভবনের চার পাশে যে পরিমাণ জায়গা রাখার কথা তা রাখা হয়নি। দুদক টিম আরও জানতে পারে, উক্ত ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজউক উক্ত ডেভেলপার কোম্পানিকে ২০১৮ সালে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করে। ডেভেলপার কোম্পানি রাজউকের এ নোটিশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করে, যা এ বছরের জানুয়ারি মাসে খারিজ হয়ে যায়। তবে উক্ত রিট খারিজ হবার সাত মাস পরেও রাজউক কর্তৃক কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগনের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে মর্মে দুদক টিমের নিকট প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। এ অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধানের অনুমোদন চেয়ে টিম কমিশনে পত্র প্রেরণ করবে।
এদিকে টাঙ্গাইল পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানির অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন- ১০৬) অভিযোগ আসে, উল্লিখিত পাসপোর্ট অফিসে অনৈতিক অর্থ প্রদান না করলে নানা অজুহাতে পাসপোর্ট ফরমে ত্রুটি বের করে হয়রানি করা হয়।
এ প্রেক্ষিতে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, টাঙ্গাইলের উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম আজ এ অভিযান পরিচালনা করে। দুদক টিম অভিযোগের বিষয়ে একাধিক সেবাপ্রত্যাশীর সাথে কথা বলে। তাঁরা প্রত্যেকেই সেবা পেতে বিভিন্ন অংকের ঘুষ প্রদান করতে বাধ্য হয়েছেন মর্মে জানা যায়। দুদক টিম আরও জানতে পারে, উল্লিখিত অফিসের ১০৬ নম্বর কক্ষে পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত ডেইলি বেসিস আউটসোর্সিং কর্মচারীরা মূলত এ লেনদেনের সাথে জড়িত। দুদক টিমের উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে উক্ত কর্মচারীরা পালিয়ে যান। টিম পাসপোর্ট অফিসে সেবার মান নিশ্চিতকরণ এবং দালালদের দৌরাত্ম্য রোধে সহকারী পরিচালককে পরামর্শ প্রদান করে।