শিরোনাম :
হালাল মাংস ও কৃষিপণ্য বাণিজ্য বাড়াতে ঢাকা-কুয়ালালামপুরের নতুন উদ্যোগ দুই কোটি কৃষককে কৃষক কার্ডের আওতায় আনতে সরকারের পরিকল্পনা ওসাকায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারে আশাবাদ পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পাহাড়ের উন্নয়নে লোকদেখানো নয়, জনবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়নের আহ্বান প্রবাসে ক্রিকেট ও বাঙালিয়ানার উৎসব, ফ্রাঙ্কফুর্টে মুখোমুখি আট দল ‘ক্ষমতার চেয়ার নয়, জনগণের সেবাই হোক দায়িত্ব’—ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইবার অপরাধ দমনে প্রতিটি মহানগরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ল্যাব স্থাপনের ঘোষণা পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকৃতিভিত্তিক উদ্যোগেই উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকা নিশ্চিত সম্ভব: প্রতিমন্ত্রী

ঢাকায় পূজামণ্ডপ উচ্ছেদ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য

জিবিসি নিউজ, ঢাকা অফিস
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫
সরকারি জমি দখল করে ধর্মীয় স্থাপনা তৈরি বেআইনি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

কোনো অবস্থাতেই সরকারি জমি দখল করে ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ অনুমোদিত নয়।

সরকারি জমি উদ্ধারের জন্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ একটি নিয়মিত

এবং আইনগত প্রশাসনিক কার্যক্রম

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় রেলওয়ের মালিকানাধীন জমি থেকে বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনার পাশাপাশি একটি অস্থায়ী দুর্গামণ্ডপ উচ্ছেদ করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতীয় গণমাধ্যমে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার পর এ ব্যাপারে বক্তব্য দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো অবস্থাতেই সরকারি জমি দখল করে ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ অনুমোদিত নয়। সরকারি জমি উদ্ধারের জন্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ একটি নিয়মিত এবং আইনগত প্রশাসনিক কার্যক্রম।

উচ্ছেদের সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের দেব-দেবীর প্রতিমার প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান ও অবজ্ঞা প্রকাশ করা হয়নি জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, “উচ্ছেদের সময় অস্থায়ী মণ্ডপের মূর্তিটি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের অংশগ্রহণে পার্শ্ববর্তী বালু নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়।”

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, পূজা শেষ হওয়ার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়কে বারবার অনুরোধের পরও মণ্ডপটি না সরিয়ে স্থায়ী মন্দির বানানোর চেষ্টা করে; যা রেলওয়ের সঙ্গে করা চুক্তির বরখেলাপ।

বিজ্ঞপ্তিতে নেপথ্যের ঘটনা তুলে ধরে বলা হয়, “গত বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় পূর্বানুমতি ছাড়াই বাংলাদেশ রেলওয়ের নিঃসন্দেহে মালিকানাধীন একটি জমিতে অস্থায়ী পূজামণ্ডপ স্থাপন করে। পরবর্তীতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শর্তসাপেক্ষে পূজা উদযাপনের অনুমতি দেয় যে, পূজা শেষে অস্থায়ী মণ্ডপটি সরিয়ে নিতে হবে। দুঃখজনকভাবে, অক্টোবর ২০২৪-এ পূজা শেষ হওয়ার পরও আয়োজকরা মণ্ডপটি অপসারণে অস্বীকৃতি জানিয়ে পারস্পরিক চুক্তি লঙ্ঘন করেন। বরং সেখানে তারা একটি ‘মহাকালী’(কালী মূর্তি) স্থাপন করেন।”

“পুনঃপুন অনুরোধ সত্ত্বেও, তারা সেই অস্থায়ী মণ্ডপটিকে স্থায়ী রূপ দেয়ার উদ্যোগ নেন; যা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের নিজস্ব চুক্তির লঙ্ঘন।”

রেলওয়েল জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কারণ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, “ডিসেম্বর ২০২৪-এ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের এবং পূজামণ্ডপ আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রেললাইন ঘেঁষে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকান, রাজনীতিক দলের অফিসসহ সব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেয়।

মূলত, বিদ্যমান রেললাইনের পূর্বদিকে ২০০ ফুট পর্যন্ত জমি বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন।

উল্লেখ্য, উক্ত জমি “ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ লাইন নির্মাণ এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ লাইন দ্বিগুণকরণ”প্রকল্পের আওতায় দুটি নতুন রেললাইন নির্মাণের জন্য জরুরি প্রয়োজন ছিল।”

“গত কয়েক মাস ধরে অবৈধ দখলদারদের একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা সাড়া দেয়নি। ২৪ ও ২৫ জুন বাংলাদেশ রেলওয়ে সবাইকে, পূজার আয়োজকদেরও, অস্থায়ী মণ্ডপসহ সব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলে। পরিশেষে, ২৬ জুন যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খিলক্ষেত এলাকায় রেললাইন সংলগ্ন সব অবৈধ স্থাপনা শান্তিপূর্ণভাবে উচ্ছেদ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।”

বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে সরকারের অধিকারের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে মন্ত্রণালয় বলে, “সরকারি জমি উদ্ধারের জন্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ একটি নিয়মিত এবং আইনগত প্রশাসনিক কার্যক্রম। দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সকল ধর্মীয় উপাসনালয়—যেগুলি আইনানুগভাবে স্থাপিত—সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই সরকারি জমি দখল করে ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ অনুমোদিত নয়। অস্থায়ী মণ্ডপের আয়োজকরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস ও সদিচ্ছার অপব্যবহার করেছেন এবং নিজ চুক্তি ভঙ্গ করেছেন।”

বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে বলা হয়, “বাংলাদেশ সব সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায়, উপাসনালয় সুরক্ষায় এবং সহাবস্থানের ঐতিহ্য রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এখানে প্রতিটি নাগরিক নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী মুক্তভাবে জীবনযাপন ও উন্নতি করতে পারে—এটাই বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদার সমাজের বৈশিষ্ট্য।”

বিভ্রান্তিকর তথ্য বা বাস্তবতা উপেক্ষা করে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD