শিরোনাম :
টেকসই প্রবৃদ্ধিতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতার নতুন দিকনির্দেশনা ২৮তম শাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামল রেলওয়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পাঁচ বছরে ২৪ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে ইতিহাস গড়লেন মেসি, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে অভিযোগ: ঢাবির তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, আরও দুজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে সুরের মিলনমেলা, দুই দিনের আয়োজন শেষ করল সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ ফ্রান্সে রেকর্ড দাবদাহে দুই দিনে প্রাণ গেল ১৮ জনের নতুন এল নিনোর প্রভাবে বিপর্যয়ের আশঙ্কা, উষ্ণ হতে পারে ২০২৭ সাল সাড়ে তিন মাস পর হরমুজ প্রণালি পেরোল ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয়, নকআউট নিশ্চিত করল নরওয়ে

ডিয়েনস্টম্যান মুক মূর্তি : হাইডেলবার্গের সাধারণ মানুষের প্রতীক

ফাতেমা রহমান রুমা,জার্মানি:
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫

জার্মানির ঐতিহাসিক শহর হাইডেলবার্গের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক নীরব অথচ জীবন্ত প্রতীক- ডিয়েনস্টম্যান মুক। ব্রোঞ্জে গড়া এই মূর্তিটি শহরের শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার বহি:প্রকাশ।

ডিয়েনস্টম্যান মুক ছিলেন কোনো কাল্পনিক চরিত্র নন, তিনি ছিলেন এক বাস্তব মানুষ। তাঁর নাম ইওহানেস ফ্রিস। জন্ম ১৮৩৭ সালে, মৃত্যু ১৯০৫ সালে। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি কাজ করতেন রেলস্টেশনে একজন ডিয়েনস্টম্যান হিসেবে। জার্মান ভাষায় ‘ডিন্স্টমান’ বলতে বোঝায় এমন একজন কর্মী, যিনি যাত্রীদের লাগেজ বহনে সহায়তা করেন।

স্টেশনে তিনি পরিচিত ছিলেন নম্বর তেহাত্তর নামে। বিনয়ী, পরিশ্রমী ও হাসিখুশি স্বভাবের এই মানুষটি জীবনের শেষদিকে দারিদ্র্যের মধ্যেও ছিলেন সবার প্রিয়। মৃত্যুর বহু বছর পরও শহরবাসী তাঁকে ভুলতে পারেনি।

২০০১ সালের ৯ জুন হাইডেলবার্গের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের সামনে স্থাপন করা হয় তাঁর স্মৃতিবাহী এই মূর্তি। শিল্পী আরমিন গ্যুথার নির্মাণ করেন ব্রোঞ্জের এই জীবনঘনিষ্ঠ ভাস্কর্যটি। মূর্তিটি উপহার দেওয়া হয় জার্মান রেল কর্তৃপক্ষকে—ডয়চে বান নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানকে। শিল্পী এটি উৎসর্গ করেন তাঁর দুই পুত্র আন্দ্রেয়াস ও স্টেফানকে, যেন পরবর্তী প্রজন্ম বুঝতে পারে, শ্রম ও মানবতার মর্যাদা কখনও ম্লান হয় না।

মূর্তিটির গায়ে দেখা যায় পুরনো ইউনিফর্ম, বুকে খোদাই করা স্পষ্ট নম্বর “৭৩”। পাশে রাখা একটি সুটকেস—যেন এখনো কোনো যাত্রী ডেকে উঠলেই তিনি সহায়তায় এগিয়ে যাবেন। মূর্তিটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যে, রেলস্টেশনে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে এই নীরব অথচ বলিষ্ঠ উপস্থিতি। এটি যেন নিঃশব্দে বলে যায়, শ্রমই সৌন্দর্য, বিনয়ই মহিমা।

ডিয়েনস্টম্যান মুক আজ হাইডেলবার্গ শহরের মানবিক আত্মার প্রতীক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন সেই অগণিত সাধারণ মানুষকে, যাদের ঘাম ও হাসিতে গড়ে ওঠে এক শহরের জীবন। তিনি ধনী বা বিখ্যাত ছিলেন না, তবু মানবতার আলোয় অমর হয়ে আছেন।

প্রতিদিন শহরবাসী ও পর্যটকেরা এই মূর্তির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে, শিশুরা তাঁর ব্যাগে হাত রাখে। যেন তিনি এখনো জীবিত রেলস্টেশনের প্রতিটি সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর নীরব হাসি ভেসে আসে। এই মূর্তিটি শুধু এক শ্রমজীবী মানুষের নয়, বরং এক শহরের হৃদয়ের উষ্ণ মানবিকতার প্রতীক।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD