বাংলাদেশের সন্তান হামিদুল খান ১৯৮২ সালে জার্মানিতে আসার পর থেকেই শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বড়দিন, বাংলাদেশের বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং পহেলা বৈশাখে তিনি নিয়মিত নানা আয়োজন করেছেন। জার্মানির বিভিন্ন শহরে ছোট ছোট অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালি সংস্কৃতিকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন স্থানীয়দের কাছে। এসব আয়োজনে বাঙালি খাবার পরিবেশন করা হতো, যা জার্মানদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করত।

বিশেষ করে বড়দিন উপলক্ষে হামিদুল খানের আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল ব্যতিক্রমী। গান ও খাবার পরিবেশন করে যে সম্মানী পাওয়া যেত, তিনি তা জার্মানির বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসরত মানুষের মাঝে বিতরণ করতেন। তার এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় সমাজে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায় এবং সে সময় জার্মানির বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
শুধু উৎসব আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি হামিদুল খান। তিনি রবীন্দ্রনাথ ও কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সংকলন, ছোট কাগজ ও ম্যাগাজিন প্রকাশের মাধ্যমেও প্রবাসে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। এসব অনুষ্ঠানে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশ থেকে খ্যাতিমান গুণীজনরাও অংশগ্রহণ করেছেন।

বর্তমানে ফ্রাঙ্কফুর্টে তিনি নিয়মিতভাবে ‘মাসিক রান্না অনুষ্ঠান’ আয়োজন করছেন, যা জার্মান ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করছে। এবারের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সাংবাদিক রুমা রহমান। তিনি প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং জার্মান অতিথিদের সঙ্গেও আনন্দঘন সময় কাটান।

যদিও এবারের আয়োজনে খাওয়ার পর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিল না, তবুও অতিথিদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে অর্থবহ করেছে। জামান-বাংলা সোসাইটির পক্ষ থেকে উপস্থিত সকল অতিথিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।
হামিদুল খানের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় জার্মানির মাটিতে বাঙালি সংস্কৃতি শুধু পরিচিতই নয়, সম্মানের সাথেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।