রাজীবুল হাসান, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেলওয়ে জংশন স্টেশন চট্রগ্রাম কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসকে ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার নগদ, ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার বিভিন্ন ব্যাংকের ৫টি চেক, ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ডিপোজিট চেক বই, ১২ বোতল পেনসিডিলসহ তাকে আটক করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ।
আটককৃত জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস ময়মনসিংহ সদরের আর কে মিশন রোড এলাকার মো.জিন্নত আলীর ছেলে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় চট্রগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে তলাশি চালিয়ে মাদক, নগদ টাকাসহ তাকে আটক করা হয়।

রেলওয়ে থানা পুলিশ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে তলাশী চালিয়ে সন্দেহজনকভাবে তার নিকটে থাকা ২টি ব্যাগ জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় এসে ব্যাগ খুলে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, চেক, ডিপোজিট বই, মাদক পাওয়া যায়। সেসব টাকা কারা পরিদর্শকের নিজ নামে ময়মনসিংহ সদর শাখার ব্রাক ব্যাংকে ২০ লাখ, সাউথ ইস্ট ব্যাংকে ৪০ লাখ, প্রিমিয়াম ব্যাংকে ৭০ লাখ টাকার চেক। সেসব চেকগুলোর উত্তোলণে তারিখ ছিল আগামী ২৮ অক্টোবর। এছাড়াও তার স্ত্রী হোসনে আরা পপির নামে প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৫০ লাখ , মাকের্টলাইলস ব্যাংকে ৫০ লাখ টাকা ও তার শ্যালক রাকিবুল হাসান নামে মার্কেটাইল ব্যাংকে ৫০ লাখ টাকাসহ মোট ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার ডিপোজিট চেকবই সহ বিভিন্ন ব্যাকের ৩ টি খালি চেক পাওয়া যায় ।
এ বিপুল পরিমাণ টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্রগ্রাম কারাগারের কারা পরিদর্শক সোহেল রানা বিশ্বাস বলেন, আমি দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত চট্রগ্রাম কারাগারে পরিদর্শক হিসাবে চাকুরি করছি। আমার তো টাকা থাকতেই পারে। এ বিপুল পরিমাণ টাকার উৎসের কথা জানতে চাইলে এ বিষয়ে কিছু বলতে ইচ্ছুক না বলে তিনি জানান।
ভৈরব রেলওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মজিদ জানান, গোপন সংবােেদ ভিত্তিতে আজ দুপুরে ভৈরব জংশনে চট্রগ্রাম থেকে চেয়ে আসা ময়মনসিংহ গামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে তলাশি চালিয়ে নগদ টাকা ও মাদকসহ তাকে আটক করা হয়। ধারণা করা যাচ্ছে এ বিপুল পরিমাণ টাকা অবৈধ উপায়ে উপার্জিত টাকা নিয়ে চট্রগ্রাম থেকে নিজ বাড়ি ময়মনসিংহ সদরে যাচ্ছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে ভৈরব রেলওয়ে থানায় মামলা হয়েছে।