মশিউর রহমান কাউসার, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন-২ প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিমের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কাটিং সংযুক্ত করে ঘটনা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গৌরীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ম. নুরুল ইসলাম ৩০ আগস্ট এ অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রকল্প পরিচালক, জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবরে।
ম. নুরুল ইসলাম জানান ‘যার জমি আছে ঘর নেই, তার জমিতে ঘর নির্মাণ’ আশ্রয়ন-২ প্রকল্পে এ উপজেলায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ২৯৮টি ঘরের বরাদ্দ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ইউনএনও ফারহানা করিম। এসব ঘর নির্মাণে নীতিমালা ও শিডিউল মানা হচ্ছেনা।
সরজমিনে দেখা গেছে শিডিউল ও নীতিমালায় উল্লেখ করা কাঠের পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে ৫শ টাকা সেফটি দরের নিম্নমানের কাঠ। প্রতিটি পিলারের দৈর্ঘ্য পরিমাপে ১ ফুট কম, রড ৪টির স্থলে ৩টি ও ব্যবহার করা হচ্ছে নিন্মমানের খোয়া (ডাস্টসহ)। আশ্রয়ণ প্রকল্প নীতিমালায় পিআইসির মাধ্যমে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কাজটি করার কথা। কিন্তু পিআইসির মাধ্যমে কাজ না করিয়ে ইউএনও নিজের পছন্দের লোকজন দিয়ে ঘরের নির্মাণ সামগ্রী তৈরির কাজ করাচ্ছেন।
এদিকে কাজের বিষয়ে পিআইসি কমিটির সদস্যরা কোন কিছু জানেন না।
উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের অধীন গৌরীপুর উপজেলায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৯৮টি ঘর নিমার্ণের জন্য ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লক্ষ টাকা। অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে ২৯৮টি ঘর নির্মাণ করা হবে। এ জন্য পাঁচ সদস্যের একটি পিআইসি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি, পিআইও (সদস্যসচিব), উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানগণ।
শিডিউলে ১৭৫ বর্গফুট আয়তনের একটি টিনের ঘরে ১২টি, বারান্দায় পাঁচটি ও ল্যাট্রিনে চারটি পিলার দেয়ার নিয়ম রয়েছে। ঘরের জন্য চার বর্গফুটের পিলারের উচ্চতা ১২ ফুট, বারান্দা ও ল্যাট্রিনের পিলারের উচ্চতা ১০ ফুট। পিলারে থাকবে ছয় এমএম গ্রেড রড (চারটি)। কিন্তু পিলার নির্মাণে রড ব্যবহার করা হচ্ছে তিনটি। পিলালের রড বাঁধাইয়ে রিং (চুড়ি) হিসেবে রডের বদলে ১৫ ইঞ্চি দুরত্বে ব্যবহার করা হচ্ছে ৮ নম্বর জিআই তার। ঢালায়ের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন দৈনিক মজুরীভিত্তিক রাজমিস্ত্রী শ্রমিক। পিলার ঢালাই শেষে মাটিতে ফেলে ওপরে পুরনো চটের মাধ্যমে ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত কিউরিং দেয়ার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না।
এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা শেষ হওয়ায় বর্তমানে তড়িঘড়ি করে দায়সারাভাবে দিনরাতে পিলার তৈরি করে ৪/৫ দিনের মধ্যেই তা বিতরণ করা হচ্ছে।