শিরোনাম :
নিউইয়র্কে ‘উইমেন লিডার্স’ প্ল্যাটফর্মে বক্তব্য দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান বহর আধুনিকায়নে বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তি, কিনবে ১১ উড়োজাহাজ শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম জয় এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যু: মামলায় আসামি মামা কারাগারে কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কারিগরি সমন্বয় কমিটির দ্বিতীয় সভা নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লবায়ু সংকট মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর কার্যকর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী চীন-মার্কিন সুসম্পর্ক বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখবে: জরিপ খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় কৃষকদের আয় ও উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিতের উদ্যোগ

গাইবান্ধায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

আশরাফুল ইসলাম,গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক বরাবরে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণার্থী কতিপয় নারী স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলার ৭টি উপজেলায় কিশোর-কিশোরীদের মানসিক উৎকর্ষ সাধনে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এসব ক্লাব তদারকি করার জন্য ফিল্ড সুপার ভাইজার ও জেন্ডার প্রমোটরও ইতিমধ্যো নিয়োগ করা হয়েছে। আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ প্রতিটি ক্লাবের জন্য ২১ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। বরাদ্দকৃত অর্থে জেলার ৬টি উপজেলায় ক্লাবগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তারা আগস্ট মাসের মধ্যে আসবাবপত্র ক্রয় করে। কিন্তু গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১৪টি কিশোর-কিশোরী ক্লাবের জন্য বরাদ্দকৃত ২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নার্গিস জাহান উক্ত টাকা উত্তোলন করে নিজের কাছে রেখে দেন। এব্যাপারে অভিযোগ প্রাপ্তির পর নভেম্বরের ১৫ তারিখে খোঁজ খবর নিতে গেলে তিনি জানান, এখনও আসবাবপত্র বিতরণ করা হয়নি। জানা গেছে, সদর উপজেলার এ সমস্ত উপকরণের বরাদ্দ ও ক্রয় সহ সকল কার্যক্রমের দায়িত্ব প্রোগ্রাম অফিসারের। অথচ তিনি তাকে কোন দায়িত্ব না দিয়ে সদর উপজেলার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, উপকরণ ক্রয়, আসবাবপত্র ক্রয় সহ সকল দায়িত্ব নিজেই পালন করে থাকেন। যা কোনক্রমেই আইন সংগত নয়। এবিষয়ে তিনি বলেন, সদর উপজেলার প্রোগ্রাম অফিসার দায়িত্ব অবহেলা করেন বলে তিনি নিজেই সমস্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এব্যাপারে প্রোগ্রাম অফিসার মো. আবু সাঈদ হোসেনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তাকে কোন দায়িত্বই দেয়া হয়না। এমনকি গোটা জেলার সমস্ত কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য অফিসের একটি মটর সাইকেল থাকলেও সেটি ব্যবহার করার জন্য তাকে জ্বালানি খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এমনকি মটর সাইকেল রেজিঃ নবায়নের অর্থও প্রদান করা হয় না। এব্যাপারে আবেদন জানালে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিয়ম বহির্ভূতভাবে তাকে চিঠি দিয়ে ওই মটর সাইকেলের জ্বালানি, রেজিঃ নবায়ন, মেরামত সহ সবকিছু নিজ দায়িত্বে পালন করার নির্দেশ দেন।

অভিযোগে আরও উলে­খ করা হয়, ২০১৭-২০১৮ সালের অর্থবছরে জেলা অফিসের আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও আসবাবপত্র ক্রয় করা হয়নি। এছাড়া গাইবান্ধা পৌরসভার ১ হাজার ৩শ’ জন ল্যাকটেটিং মাদার স্বাস্থ্যসেবা খাতে জনপ্রতি ৯৯ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রতিটি ল্যাকটেটিং মাদারকে হেলথ্ ক্যাম্পে সাবান, স্যালাইন সহ বিভিন্ন উপকরণ দেয়ার বিধান থাকলেও নিম্নমানের উপকরণ সরবরাহ সহ অনুপস্থিত গর্ভবর্তী মায়েদের উপকরণগুলো মাস্টারোলে ভূয়া স্বাক্ষর/টিপ করে তা আত্মসাৎ করা হয়। এছাড়া দুঃস্থ মহিলাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৫টি ট্রেডে ৩ মাসে ১শ’ দুঃস্থ মহিলাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং তাদের ১শ’ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হয়। এই ৫টি ট্রেডে গড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন প্রশিক্ষর্ণাথী অনুপস্থিত থাকলেও অনুপস্থিত প্রশিক্ষর্ণার্থীদের ৩ হাজার করে টাকা কেটে নেন। এছাড়া মোমবাতি কারচুপি ট্রেডের প্রশিক্ষক রুমাইয়া আক্তার রিমু উপ-পরিচালকের নানা অনিয়মের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, এই ট্রেডে দুঃস্থ মহিলাদের কোন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় না। এতে সরকারের বরাদ্দকৃত গোটা টাকাই গচ্ছা যাচ্ছে। জানা গেছে, রুমাইয়া আক্তার রিমু মোমবাতি প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে যথাযোগ্য কোন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করেই তিনি ট্রেডে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

দুঃস্থ মহিলাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করা হলেও উক্ত টাকা আদায়ের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বিপুল পরিমাণ টাকা অনাদায়ি রয়েছে। ফলে ঘূর্নায়মান এই তহবিল থেকে অর্থাভাবে নতুন কোন ঋণ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে সরকারি এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দুঃস্থ নারীরা। শুধু তাই নয়, ভাড়া অফিস হওয়ার কারণে গত ২ বছরে অফিস মেরামতের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ পুরোটাই আত্মসাৎ করেছেন। এব্যাপারে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নার্গিস জাহান এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন আখ্যায়িত করে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।

উল্লেখ্য, অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগের অনুলিপি মহিলা বিষয়ক ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা আ’লীগের সভাপতি ও সম্পাদক এবং সভাপতি গাইবান্ধা প্রেসক্লাব বরাবরেও ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অভিযোগ তদন্তের জন্য জরুরী ভিত্তিতে তদন্ত টিম প্রেরণ করে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD