শিরোনাম :
শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বৈশ্বিক উদ্যোগ, মেলানিয়ার আয়োজনে বাংলাদেশের ডা. জুবাইদা রহমান নেপালে তুষারধসে নিহত ১৫ অভিযাত্রীকর্মী, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত জাতীয় দিবসে হংকংয়ে এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’র অগ্রযাত্রার বার্তা চীনের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সি চিন পিংকে শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান বিষাক্ত ইনজেকশনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ, ভেন্টিলেটরে ক্রিস্টিয়া পাইক তিন মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং উৎখাতের ঘোষণা চিফ হুইপের কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরের পথে ইউরেনিয়ামবাহী বহর এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বিয়ের তথ্য বাংলাদেশকে শক্তিশালী বিনিয়োগকেন্দ্র হিসেবে গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সহিংসতায় গ্রেপ্তার ১,৭৪৭

খুলনা নগরীতে দিন দিন বেড়েই চলেছে মাদকাসক্ত পথশিশু ও শ্রমজীবি শিশু

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১২ জুন, ২০১৯

রাইসুল আলম রবিন,খুলনা প্রতিনিধি: শ্রমজীবি ও পথশিশুর আশি শতাংশই মাদকাসক্ত। বাকিরাও রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। কিন্তু কী পরিমাণ শিশু শ্রমিক রয়েছে খুলনায়, তার নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই সরকারি বা বেসরকারি সংস্থায়।

সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলেও শিশু শ্রমিকের সংখ্যা উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে। শুধু বেঁচে থাকার তাগিদে অল্প বয়সী এসব শিশু অমানবিক পরিশ্রমের সাথে যুক্ত হচ্ছে। কাজের ক্ষেত্রে দিন দিন তাদের ঝুঁকি বাড়ছে। শিশুশ্রম বন্ধে কঠোর আইন থাকলেও অর্থনৈতিক দূরবস্থা ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে শিশুরা নানা শ্রমে নিয়োজিত হচ্ছে। নগরীতে পথশিশু, শ্রমজীবী শিশু নিয়ে কাজ করেন অনেক সরকারি-বেসরকারি সংস্থা। কিন্তু নগরীতে কী পরিমাণ শিশু শ্রমিক রয়েছে বা পথশিশু রয়েছে তার নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে। এসব সংস্থাগুলো বলছে, পথশিশু এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের প্রায় ৮০ শতাংশই মাদকাসক্ত। এইসব শিশুরা ড্যান্ডি (সলিউশন জাতীয় আঠা পলিব্যাগে ভরে শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে নেওয়া এক জাতীয় নেশা) নামক নেশার সাথে যুক্ত হচ্ছে। আবার ভাঙ্গাড়ি টোকানো এবং এর সাথে যুক্ত শিশুদেরকে ব্যবসায়ীরাই ড্যান্ডি সরবরাহ করে থাকে। গতকাল বিকেলে নগরীর হাদিস পার্কে কয়েকজন শ্রমজীবী পথশিশুকে আড্ডা দিতে দেখা যায়। দলের মধ্যে ছিল পিরোজপুরের রাজিব। তার জন্মস্থান বলতে পারে না। বড় হয়েছে নতুন বাজার ওয়াপদা এলাকায় নানির কাছে। নানি খোঁজ নেয়না। মাঝে মাঝে দেখা হলে টাকা চায়। তাই আর তার কাছে যায় না রাজিব। রাজিব জানায়, আমি ভাঙ্গাড়ি টোকাই। কাকা (ভাঙ্গাড়ি ব্যবসায়ী) আমারে টাকাও দেয় আবার ড্যান্ডিও দেয়। আগে এক দোকানে মাল দিতাম। সেখানে ড্যান্ডি খেতে দেয় না। ড্যান্ডি খাইলে গায়ে ব্যথা থাকে না। ভালই লাগে। কোনো স্কুলে যাই না। সবাই আমাদের দেখায়ে টাকা আয় করে। ক’দিন মাথায় হাত বুলায়। তারপর আর নেই।
পরিবর্তন খুলনার নির্বাহী পরিচালক এম নাজমুল আযম ডেভিড জানান, দারিদ্র্যের কারণেই মূলত শিশুশ্রম বন্ধ হচ্ছে না। দারিদ্র্য ছাড়াও জনসংখ্যার ঊর্ধ্বগতি, শিক্ষার অভাব, গণসচেতনতার অভাব, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গী, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, আইন প্রয়োগের অভাব, স্বল্প বেতনে শিশু শ্রমিকের সহজপ্রাপ্যতা, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, পারিবারিক বিচ্ছেদ, কুসংস্কার, পরিবারের আকার বড়, বহুবিবাহ, বাল্যবিবাহ, শহরে বস্তির বিস্তার, পিতা-মাতার মৃত্যু/স্থায়ী অনুপস্থিতি প্রভৃতি শিশুশ্রমের অন্যতম কারণ।

বেসরকারি সংস্থা জেজেএস’র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এমএম চিশতী জানান, বেসরকারি সংস্থাগুলো কিছু দিনের জন্য শিশুদের নিয়ে কাজ করে। সরকারিভাবে স্থায়ী কাজের পরিধি বাড়লে ভাল হতো। তাছাড়া কর্ম এলাকার মালিকরা আন্তরিক হলে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম হয়তো কমবে। একথা সত্য যে, খুলনায় অনেক সংগঠন শিশুদের নিয়ে কাজ করলেও প্রকৃত শ্রমজীবী বা পথশিশুদের সংখ্যা কারো কাছে পাওয়া যাচ্ছে না। এসব শিশুদের নিয়ে আর দেরি করা ঠিক হবে না। কারণ এদের মধ্যে ৮০ শতাংশ শিশুই মদকাসক্ত এবং দিন দিন এর সংখ্যা আরও বাড়ছে।

খুলনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক খান মোতাহার হোসেন জানান, খুলনায় কী পরিমাণ শিশু শ্রমিক, পথশিশু রয়েছে, তার তথ্য আমাদের কাছে নেই।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD