আসাদুজ্জামান চৌধুরী কাজল, নোয়াখালী: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুর ১২টায় উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চরকালি গ্রামের আবুল কালাম মেস্তরির নতুন বাড়িতে পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে জানা যায়। দুপুর প্রায় ২টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত গৃহবধূর নাম শারমিন আক্তার রিতু (১৮) উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কালা মিয়ার নতুন বাড়ির ফখরুল ইসলাম’র মেয়ে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের শশুর আবুল কালাম (৬০) ও শাশুড়ি আরাধনী (৫০) কে আটক করেছে।
নিহতের মা তৈয়বের নেছা জানান, একই এলাকার মোশারেফ হোসেন বাহাদুর’র সঙ্গে প্রায় ৩ বছর আগে রিতুর বিবাহ হয়। জামাতা মোশারেফ হোসেন বাহাদুর ওমান প্রবাসী। বিবাহের পর থেকে জামাতা এবং তার মা, বোন আমার মেয়ের ওপর বিভিন্ন ভাবে অমানুষিক অত্যাচার করে। মেয়ের জামাতা ও শশুর বিভিন্ন সময় আমার কাছে নগদ ৩ লাখ টাকা দাবি করে। এই সব ঘটনা নিয়ে একাধিকবার সামাজিক ভাবে বৈঠক হয়। এ সব ঘটনার রেশ ধরে সম্প্রতি তাদের সম্পর্কের আরো অবনতি হয়।
নিহতের মা আরো অভিযোগ করেন, নিহতের স্বামী, শশুর, শাশুড়ি ও ননদ তার মেয়েকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে তারা আমার মেয়েকে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। কিন্তু আমার মেয়েকে নিয়ে আসার অনেক আগেই সে মারা যায় এবং হাসপাতালের আঙ্গিনায় লাশ রেখে মেয়ের শশুর-শাশুড়ি পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে খবর পেয়ে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপ-পুলিশ পরির্দশক (এসআই) নিজাম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করেছি। ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।