রেজাউল করিম বিপ্লব, ময়মনসিংহ থেকে: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রকল্প থাকলেও কাজে কর্মরত শ্রমিক নেই। তার পরও চলছে কর্মসৃজন প্রকল্পের কর্মসূচির কাজ। এ উপজেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১১ ইউনিয়নে ৮৩ টি প্রকল্পে ৫ হাজার ১শ ৬৭ জন শ্রমিকের কাজের জন্য ৪ কোটি ৮৫ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ। কাজের শুরুতেই এসব প্রকল্পে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগকারী নেতাকর্মীদের নিয়ে এক বৈঠক করেন। বৈঠকে শ্রমিক বিহীন কাজ করার অভিযোগ তুলে ধরেন নেতা কর্মীরা। এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি – সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে নেকর্মীদের বেরিয়ে যাওয়ার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নেতাকর্মীরা জানান, কর্মসৃজন প্রকল্পের অনিয়ম দূর্নীতির বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তারুন্দিয়া ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রউফ, বড়হিতের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল হক, ঈশ^রগঞ্জ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, মগটুলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছালাম, উচাখিলার সভাপতি মঞ্জুরুল হক, সরিষার সভাপতি নূরুল ইসলাম। সরেজমিন বুধবার উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের ৬টি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোন প্রকল্পে কাজ শুরুই হয়নি। অথচ এসব প্রকল্পে গত ৩ সপ্তাহ ধরে কাজ চলছে বলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের দাবি। মগটুলা ইউনিয়নের তরপ-পাচাইল শাহজাহানের বাড়ি হতে ইয়াকুব আলীর বাড়ি পর্যন্ত, ধনিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গর্তে মাটি ভরাট, নাউরি দুলালের বাড়ি হতে ফজলুর রহমানের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, তাজপুর গ্রন্থগার হতে আব্দুল খালেকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, বৈরাটি নূরমুহাম্মদের বাড়ি হতে চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, বাঘবের কমিউনিটি সেন্টার হতে সেকান্দর আলীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্প গুলোতে সকাল ১০ থেকে দুপুর দুটা পর্যন্ত কোন শ্রমিককে প্রকল্প এলাকায় খোঁজে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় এলাকাবাসী আব্দুল জলিল আজহারুল ইসলাম খায়রুল আলম সহ অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান, এলাকায় রাস্তা সংস্কারের কোন কাজ তারা এখনো দেখতে পাননি। এ সব প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্যগণকেও এলাকায় পাওয়া যায়নি । তাদের মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও অনেকের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এর মাঝে যাদেরকে ফোনে পাওয়া যায় তারা জানান, আমরা এলাকার বাহিরে আছি পরে কথা বলবো।
এ সম্পর্কে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান মামুনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তার ইউনিয়নে ৬টি প্রকল্পে ৪শ শ্রমিক রয়েছে। সবগুলো প্রকল্পেই কাজ চলছে। তবে কাজের গেপ আছে। কবে কাজ শুরু হয়েছে তা এ মহুর্তে বলা যাচ্ছে না।
এ ব্যপারে প্রকল্প বাস্থবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, উপজেলায় ৮৩টি প্রকল্পে ৫ হাজার ১শ ৬৭ জন শ্রমিক রয়েছে। তবে শ্রমিক বিহীন প্রকল্পের কাজ কি ভাবে চলছে এ সম্পর্কে ওই কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাস করুন বলেই তার ফোনটি কেটে দেন ।
এ বিষয়টি সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম সহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এলিশ শরমিনকে অবহিত করা হলে তাঁরা বিষয়টি দেখছেন বলে জানান।