ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ফের কেঁপে উঠলো ইসরায়েলের হাইফা, জেরুজালেম ও প্রধান শহর তেল আবিব। শুক্রবার (২০ জুন) বিকালে ইরান থেকে ছোড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন; যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে ইরান অন্তত ৩০টির বেশি ব্যালাস্টিক মিসাইল ছুড়েছে; যার অনেকগুলো ঠেকানো সম্ভব হয়নি। ফলে তা বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনে।
চলমান সংঘাতের অষ্টম দিনে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের এক পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যার পর দেশটির পক্ষ থেকে এই প্রত্যাঘাত আসে বলে জানায় ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। উত্তরের হাইফা এলাকা এবং দক্ষিণের বীরশেবা, যেটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘন ঘন লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। সেখানেও আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। জেরুজালেমেও অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র পতনের খবর পাওয়া গেছে।
এই হামলার প্রায় ৩৯টি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২।
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি, দেশজুড়ে জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে বিমান হামলার সাইরেন বাজছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির ঘনত্ব আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে এই সরাসরি হামলা নতুন মাত্রা যোগ করলো।
অন্যদিকে, ইরানের এই আক্রমণের মধ্যে যুক্তরাজ্যে ঘটে গেছে আরেকটি বিতর্কিত ঘটনা।
ব্রিটেনের অক্সফোর্ডশায়ারে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ব্রাইজ নর্টন ঘাঁটিতে প্রো-প্যালেস্টাইন আন্দোলনকারীরা ঢুকে দুটি সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য নাশকতা’ উল্লেখ করে একটি নিরাপত্তা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “এই প্রতিবাদ গাজার জন্য কিছুই করে না, বরং আমাদের শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টাকে ব্যাহত করে।”
‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ নামের একটি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, কর্মীরা সামরিক বিমানে লাল রঙ স্প্রে করে এবং রড দিয়ে আঘাত করে ক্ষতিসাধন করে; যা ছিল যুক্তরাজ্যের ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
এই দুইটি ঘটনাই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।