জার্মান-বাংলা ডেস্ক :গত ৫ জানুয়ারি রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় দুই বছরের শিশু আয়েশার মরদেহ পাওয়া যায়। মেয়ে আয়েশা ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবীতে মা রাজিয়া সুলতানার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গত রোববার অবস্থান কর্মসূচি করেন। তপ্তরোদে একা বসে আছেন তার সামনে একটি ব্যানারে লেখা ‘আয়েশা হত্যার বিচার চাই,ধর্ষক নাহিদের ফাঁসি চাই’।
ঘটনার সূত্র, জানুয়ারির এক বিকেলে বাসার সামনে খেলছিল রাজিয়ার ২ বছর বয়সের সন্তান আয়শা মনি। সন্ধ্যার দিকে পাশে চারতলা একটি ভবনের সামনে রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এই ঘটনায় তার স্বামী মোঃ ইদ্রিস গেন্ডারিয়া থানায় মামলা করেন।
শিশু আয়েশার মা রাজিয়া গৃহিণী তার স্বামী ঝালাইয়ের কারখানায় কাজ করেন। তাদের চার মেয়ের মধ্যে আয়েশা ছিল দ্বিতীয়। রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া থাকে পরিবারটি। এই পরিবারকে আইনি সহায়তা দিচ্ছে আইনসেবা নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটির তৎপরতায় ৫ মার্চ মামলাটি থানা থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হস্তান্তরিত হয়। তবে এখনো তদন্ত শেষ করতে পারেনি পিবিআই। মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উপ-পরিদর্শক সাদিকুর রহমান।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিশু আয়েশার মা রাজিয়া বলছিলেন, আমি চাই বিচার। সাত মাস হলো বিচার পায় না মামলা আাসামীরা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আসামিদের টাকা পয়সা আছে, চেয়ারম্যান মেম্বার আছে, হাবু ও লিয়াকতেরা তাদের সঙ্গে আছে, টাকা-পয়সা খরচ করে তারা পার পেয়ে যাবে তা আমি চাইনা।
আমি তো গরিব মানুষ, আমি তো বিচার পাব না, আমি মানববন্ধন করি, আমার তো টাকা পয়সা নেই, আমি তো উকিল ধরতে পারি নাই, আমার কোন উকিল নাই।
মামলাটি প্রথমে গেন্ডারিয়া থানায় ছিল এখন এই মামলা বনশ্রী পিবিআইতে গেছে কারণ তারা বলেছে মামলা যদি গেণ্ডারিয়ায় থাকে তাহলে বিচার পাবেন না। আসামি হাসপাতালে ও গেন্ডারিয়া থানায় টাকা দিয়েছে, এমনকি মামলার কাগজপত্র তোলার জন্য কোর্টে গেছি সেখানেও তারা টাকা দিয়েছে আমি কাগজপত্র তুলতে পারি নাই। এজন্য আমি মানববন্ধন করতে এসেছি যেন কোনভাবে আসামি শাস্তির বাইরে না যায় আমি আসামির ফাঁসি চাই আমি আর কিছু চাই না।
আমার শিশু বাচ্চাকে যেভাবে কষ্ট দিয়েছে, আমি চাই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই, দেশবাসীর কাছে বিচার চাই। প্রভাবশালী ও টাকা পয়সা দিয়ে যেন ছাড় না পায়।
প্রেসক্লাবের সামনে রাজিয়া বলছিলেন,আপনারা দয়া করে আমার বিচারটা করে দেন। পুলিশ এখনো জবানবন্দি করতে পারে নাই, পুলিশ শুধু তদন্ত করছে, ঘটনাটি সারা বাংলাদেশের সবাই জানে অথচ তারা তদন্ত করছে আজ সাত মাস চলছে তাদের তদন্ত শেষ হচ্ছে না। এই ছোট্ট একটি বাচ্চাকে ধর্ষণ করে তিন তলা থেকে ফেলে দিয়ে মারল সবাই দেখলো আর কি তদন্ত চায়। তারা শুধু তদন্ত করছে তদন্ত যেন শেষ হয় না কবে যে শেষ হবে আল্লাহই জানে।
রাজিয়ার পরিবারকে আইনি সহায়তা দেওয়া সংগঠন আইনসভার সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গতকাল সকালের সময়কে বলেন,মামলাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন এর অপেক্ষায় আছেন সঠিক ঘটনাটি যাতে উঠে আসেএ বিষয়ে আইনসেবা পিবিআই কে অভিহিত করেন অন্যদিকে। অন্যদিকে বাদী পক্ষের অনুরোধে ঘটনাস্থল বিল্ডিং এর কাঠামোগত যাতে পরিবর্তন না করা হয় সেই বিষয়টিকে খতিয়ে দেখার জন্য আইনসেবা পিবিআইকে অনুরোধ করেছেন।