আজ ১লা আগস্ট, স্মরণে ভেসে ওঠে এক দীপ্তচেতন সংগ্রামী, প্রবাসে থেকেও যিনি বাংলাদেশকে বয়ে বেড়িয়েছেন হৃদয়ের গভীরতম প্রদেশে। খুলনার সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে জন্মগ্রহণকারী আমিনুর রহমান খসরু শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা নন-তিনি ইতিহাসের এক প্রত্যক্ষ অংশীদার, জাতির চেতনায় উজ্জ্বল এক প্রজ্বলনশিখা।
ছাত্রজীবনেই তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গনে পদার্পণ-১৯৬৮ সালে খুলনা সেন্ট জোসেফ স্কুলে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রলীগে যোগদানের মধ্য দিয়ে যে পথচলার সূচনা, তা ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে এসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ে পরিণত হয়। অপারেশন জ্যাকপটের মংলা শাখার নেতৃত্বদানকারী হিসেবে তাঁর বীরত্ব আজও গৌরবের সাথে উচ্চারিত হয়। তাঁর অধিনায়কত্বে ১৫ই আগস্ট রাতে মংলা বন্দরে বিদেশি ছয়টি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল-যা ছিল শত্রুর হৃদয়ে বজ্রাঘাতের সমান।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠনের কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন নিরলসভাবে। ১৯৭৭ সালে দেশত্যাগের পরও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে সরে আসেননি তিনি। জার্মানিতে প্রবাসজীবন শুরু করে সেখানেও গড়ে তুলেছেন বাঙালির অধিকার আদায়ের এক বলিষ্ঠ মঞ্চ। তিনি জার্মান আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, দীর্ঘদিন ছিলেন কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পরবর্তীতে জার্মান আওয়ামী লীগের প্রধান উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক। তিনি ছিলেন তিনবারের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যানও।
আজ তিনি সর্ব ইউরোপীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমিনুর রহমান খসরুর জীবনানুগ পথচলা কেবল এক ব্যক্তির নয়, বরং তা এক সংগ্রামী প্রজন্মের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তাঁর অবদানকে জার্মান-বাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এই দিনে আমাদের প্রার্থনা-তিনি দীর্ঘজীবী হোন, সুস্থ থাকুন, আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকুন।