গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় আবৃত্তি ও সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সংস্কৃতি মানুষকে মুক্তচিন্তা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। তাই একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সহিংসতামুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সাংস্কৃতিক চর্চার কোনো বিকল্প নেই।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের আয়োজিত ‘উৎসব-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে ‘স্মৃতির দর্পণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতেই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে আহত যোদ্ধা এবং গত ১৬ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদেরও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাদের দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জুলাইয়ের চেতনা ছড়িয়ে দিতে এবং কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আবৃত্তি দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি। এ কারণে জাতীয় সংসদে আইন সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির একটি স্বীকৃত শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আবৃত্তিশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা কবিতা ও সাহিত্যকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে গণতান্ত্রিক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলছেন। তাদের এ ভূমিকা একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, শিরিন সুলতানা, বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বক্তব্য দেন। পরে আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট সংস্কৃতিকর্মী, আবৃত্তিশিল্পী, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।