শিরোনাম :
জার্মানিতে অভিবাসন বিরোধ, নর্ড স্ট্রিম তদন্ত, রাইনে নাব্য সংকট ও চরম আবহাওয়ার সতর্কতা ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট, বৃহস্পতিবার মুখোমুখি মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৩ জনের, আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে নেওয়ার উদ্যোগ লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি, আগস্টে প্রত্যাবাসন ৫১৪ পাঁচ মাস পর নতুন কমিশন পেল দুদক নবম জাতীয় বেতন স্কেল: সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির চূড়ান্ত সুপারিশ জেনেভায় গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যে বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত শিল্প ও পরিবহনে নতুন চাপের মধ্যে জার্মানি, অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির আশা ও AI নিয়ে বাড়ছে প্রস্তুতি সিসিলির জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের ‘অমূল্য’ চার চিত্রকর্ম চুরি

সম্পাদকীয় : মা- মানবতার প্রথম আশ্রয়, জীবনের অনন্ত প্রেরণা

সম্পাদকীয়:
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

সম্পাদকীয় : আজ বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবনে সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে নির্ভরতার নাম—মা। জন্মের আগ থেকে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সন্তানের সুখ, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের জন্য যে মানুষটি নিঃস্বার্থভাবে নিজেকে বিলিয়ে দেন, তিনি মা। তাই মা শুধু একটি সম্পর্ক নন; তিনি ভালোবাসা, ত্যাগ, মমতা ও মানবতার চিরন্তন প্রতীক।

বিশ্ব মা দিবস কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের দিন নয়; এটি মায়ের প্রতি আমাদের দায়িত্ব, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা নতুন করে স্মরণ করার একটি উপলক্ষ। আধুনিক সভ্যতার দ্রুতগতির এই সময়ে মানুষ যতই প্রযুক্তিনির্ভর হোক না কেন, মায়ের স্নেহের বিকল্প কখনো সৃষ্টি হয়নি, হবেও না। কারণ পৃথিবীর প্রতিটি মহান মানুষের পেছনে একজন মায়ের নীরব ত্যাগ ও অদৃশ্য প্রেরণা জড়িয়ে থাকে।

একজন মা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি। তিনি সন্তানকে শুধু জন্মই দেন না; আদর্শ, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের প্রথম শিক্ষাও দেন। মায়ের কোল থেকেই শিশুর মানবিক বিকাশের সূচনা হয়। তাই একটি জাতির ভবিষ্যৎ গঠনে মায়ের ভূমিকা অপরিসীম। ইতিহাসের দিকে তাকালেও দেখা যায়, সমাজ পরিবর্তন, মুক্তিসংগ্রাম কিংবা জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় যেসব মানুষ পৃথিবীকে আলোকিত করেছেন, তাদের জীবনে মায়ের অবদান ছিল গভীর ও অনস্বীকার্য।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজকের সমাজে অনেক মা অবহেলা, নিঃসঙ্গতা ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছেন। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের ঠাঁই হওয়া, কর্মব্যস্ত জীবনে মায়ের সঙ্গে সময় না কাটানো কিংবা তার অনুভূতির মূল্য না দেওয়া আমাদের সামাজিক অবক্ষয়েরই প্রতিচ্ছবি। অথচ যে মা সন্তানের জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দেন, তার প্রাপ্য কেবল একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতা হতে পারে না। মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের সবচেয়ে বড় উপায় হলো—তার সম্মান রক্ষা করা, পাশে থাকা এবং জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তার যত্ন নেওয়া।

বিশ্ব মা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—প্রতিটি মায়ের মুখে হাসি ফোটানো, তাদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং পরিবারে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও মাতৃস্বাস্থ্য, কর্মজীবী মায়েদের নিরাপত্তা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। কারণ মায়েরা নিরাপদ ও সম্মানিত হলে সমাজও মানবিক ও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

আজকের এই দিনে পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা, অফুরন্ত ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। যেসব মা আমাদের মাঝে নেই, তাদের প্রতিও রইল বিনম্র স্মরণ। মা হোক মানবতার সবচেয়ে পবিত্র বন্ধন, আর তার ভালোবাসায় আলোকিত হোক প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি সমাজ, প্রতিটি দেশ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD