শিরোনাম :
পুঁজি ও কূটনীতির মেলবন্ধনে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথরেখা আইসিইউতে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ উদ্বেগজনক, মৃত্যুহার ৯০ শতাংশের বেশি: আইসিডিডিআরবি করাচির দুই হাসপাতালে শতাধিক শিশুর এইচআইভি শনাক্ত, নীরব স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিট কেলেঙ্কারি ঘিরে চাপের মুখে সরে গেলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান, বললেন ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎই অগ্রাধিকার’ ইউরোপজুড়ে দাবানলের তাণ্ডব, স্পেনে প্রথম জাতীয় জরুরি অবস্থা দক্ষিণ চীন সাগরে বহিরাগত হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ চীন-আসিয়ান বৈঠকে চার দফা সহযোগিতা প্রস্তাব শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আলোচনা নয়, সরকারের সঙ্গে বৈঠকের আগে সিজেপির কঠোর বার্তা কুয়েত ও কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় শেষ হলো জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব

যুক্তরাষ্ট্র–জামায়াত যোগাযোগ ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত: ফরহাদ মজহার

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬

বিশিষ্ট কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত যোগাযোগ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য গভীর উদ্বেগের বার্তা বহন করে। তিনি মনে করেন, এই সম্পর্কের ইঙ্গিতকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটিকে একটি সম্ভাব্য অশনিসংকেত হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভার প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, গাজায় তথাকথিত ‘স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী’ পাঠানোর প্রস্তাবের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট আপত্তি না আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, এই নীরবতা কেবল কৌশলগত নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করে, যা ভবিষ্যৎ ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে।

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় এলে শরিয়াহভিত্তিক নীতি বাস্তবায়ন বা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানানো হবে—সে বিষয়েও কূটনৈতিক পর্যায়ে আগাম আলোচনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ফরহাদ মজহার বলেন, এসব আলোচনা থেকেই বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও জামায়াতের মধ্যে নীতিগত বোঝাপড়ার একটি ভিত্তি ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আগেভাগেই তাদের অবস্থান পরিষ্কার করছে এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্রভাবশালী ভূরাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তব বিশ্বব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক আইন কার্যকর বলে মনে হয় না। মার্কিন রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণই তার বড় উদাহরণ। তিনি আরও বলেন, বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা রয়েছে।

ভারতীয় প্রভাবের প্রসঙ্গ টেনে ফরহাদ মজহার বলেন, দেশে প্রায়ই ভারতবিরোধী বক্তব্য শোনা গেলেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা চোখে পড়ে না। তাঁর মতে, এই প্রবণতা রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে এক ধরনের দ্বৈত মানসিকতার প্রকাশ।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) আহমেদ ফেরদৌস এবং কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল। বক্তারা সমসাময়িক ভূরাজনীতি, আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD