ছবি: আমার দেশ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গত ১৬ বছরে পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মী, আলেম-ওলামাদের হত্যা করে দেশে দমন-পীড়নের শাসন কায়েম করা হয়েছিল। তবে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশবাসী সেই অপশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে।
শুক্রবার সকালে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার সময় তিনি ফেনীতে এসে মানবিক সহায়তায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, আবরার ফাহাদ ফেনী নদী নিয়ে কথা বলায় তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এ কারণে ফেনীবাসী তাকে আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে তিনি ফেনীসহ দেশের ৩৬টি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও বিশেষায়িত হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দেন। পাশাপাশি ফেনী নদীর তীরে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ফেনীতে একটি আধুনিক স্টেডিয়ামসহ নানামুখী উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। নতুন বাংলাদেশ গড়তে ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয়ী করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এ টি এম মাসুম ও কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরার সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূইয়া। আরও বক্তব্য দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ সদর আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি রাশেদ প্রধান।
ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ফেনী-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, একই আসনের আরেক মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কবির আহমদ, ফেনী জেলা জামায়াতের সাবেক আমির এ কে এম সামছুদ্দিন, শহর জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবির ফেনী শহর সভাপতি ওমর ফারুক এবং জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলাল।
সমাবেশে জামায়াত, শিবির ও ১১ দলীয় জোটের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।