গণভোটসহ বিভিন্ন সংস্কার-সংক্রান্ত অনৈক্যের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করে তা সরকারকে জানাতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। দলগুলো যদি সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে সরকার নিজস্ব উদ্যোগে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভায় সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জানানো হয়। সভায় কমিশনের প্রস্তাবিত জুলাই জাতীয় সনদ, সংবিধান সংস্কার আদেশ, এবং গণভোটের সময় ও বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, “কমিশনের দীর্ঘ আলোচনার পরও কয়েকটি সংস্কার-সংক্রান্ত বিষয়ে ভিন্নমত রয়ে গেছে। বিশেষত গণভোট কবে হবে এবং এর বিষয়বস্তু কী হবে— এসব প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ উদ্বেগজনক।”
অধ্যাপক আসিফ নজরুল আরও বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে কালক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকারের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।”
গণভোট নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আজকের বৈঠকে যা আলোচনা হয়েছে তা লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এর বাইরে কিছু বলার সুযোগ বা প্রয়োজন নেই।”
তিনি সাংবাদিকদের আরও জানান, সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে কোনো আল্টিমেটাম দেয়নি, বরং আহ্বান জানিয়েছে। “আমরা আশা করছি, দলগুলো নিজেরা আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছাবে। যদি তারা তা করতে ব্যর্থ হয়, তবে সরকার নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেবে,” বলেন আইন উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, “সরকার ইতিমধ্যে বহুবার আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। এখন প্রত্যাশা করছি, যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ১৫ বছর ধরে একসাথে ছিলেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন— তারা নিজেরা আলোচনায় বসে ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব দেবেন। এতে আমাদের কাজ সহজ হবে।”
অধ্যাপক নজরুল আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার মধ্য দিয়েই দেশ একটি গঠনমূলক ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাবে।