শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার তিন আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে র্যাব। রোববার সন্ধ্যায় র্যাব-৮–এর মাদারীপুর ক্যাম্পে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান র্যাব-৮–এর অধিনায়ক কমান্ডার শাহাদাত হোসেন।

এর আগে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর এলাকার সোহাগ খান (২৮), রাব্বি মোল্যা (২৪) ও পলাশ সরদার (২৫)।
রোববার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার আসামিদের মাদারীপুর ক্যাম্পে আনার পর প্রেস ব্রিফিংয়ে কমান্ডার শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা খোকন চন্দ্র দাসকে হত্যার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে খোকন চন্দ্র দাস ব্যবসার টাকা ভর্তি একটি ব্যাগ নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি তিলই ব্যাপারী বাড়ি মসজিদের সামনে অটোরিকশা থেকে নামার পর হেঁটে যাওয়ার সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা সোহাগ খান, রাব্বি মোল্যা ও পলাশ সরদার দেশীয় অস্ত্র ও ছুরি দিয়ে ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেন। এ সময় এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তাঁকে গুরুতর আহত করা হয়। একপর্যায়ে খোকন আসামিদের চিনে ফেলায় তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ঘটনার পরপরই ডামুড্যা থানায় দস্যুতা ও হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়। মামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে র্যাব-৮ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। র্যাব-১৪–এর সহযোগিতায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় খোকন চন্দ্র দাসের ওপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তিনি মারা যান।
খোকন চন্দ্র দাসের বাড়ি তিলই গ্রামে। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর বাবা পরেশচন্দ্র দাস ডামুড্যা থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। খোকনের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, মৃত্যুর আগে খোকন চন্দ্র দাস হামলায় জড়িত সোহাগ খান ও রাব্বি মোল্যার নাম বলে যান। প্রাথমিক তদন্তে পলাশ সরদারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে তিনজনকেই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়।