শিরোনাম :
পুঁজি ও কূটনীতির মেলবন্ধনে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথরেখা আইসিইউতে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ উদ্বেগজনক, মৃত্যুহার ৯০ শতাংশের বেশি: আইসিডিডিআরবি করাচির দুই হাসপাতালে শতাধিক শিশুর এইচআইভি শনাক্ত, নীরব স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিট কেলেঙ্কারি ঘিরে চাপের মুখে সরে গেলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান, বললেন ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎই অগ্রাধিকার’ ইউরোপজুড়ে দাবানলের তাণ্ডব, স্পেনে প্রথম জাতীয় জরুরি অবস্থা দক্ষিণ চীন সাগরে বহিরাগত হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ চীন-আসিয়ান বৈঠকে চার দফা সহযোগিতা প্রস্তাব শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আলোচনা নয়, সরকারের সঙ্গে বৈঠকের আগে সিজেপির কঠোর বার্তা কুয়েত ও কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় শেষ হলো জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব

‘ঔপনিবেশিক লুণ্ঠনের বৈধতা ভাঙছে ফ্রান্সের নতুন বিল’

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সম্প্রতি ফরাসি সংসদ অন্য দেশ থেকে অবৈধভাবে অর্জিত সাংস্কৃতিক নিদর্শন ফেরতের প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি বিল পাস করেছে। বিদেশে হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক নিদর্শন ফেরতের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিলটি ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন) বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি জরিপ পরিচালনা করে। এতে দেখা যায়, ৬৭.৬% উত্তরদাতা মনে করেন, এই বিল পাসের মাধ্যমে ফ্রান্স তার ঔপনিবেশিক লুণ্ঠনের ইতিহাস আইনগতভাবে স্বীকার ও সংশোধনের দিকে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছে।
নতুন এই বিলটি দেশটির ‘হেরিটেজ কোড’-এ প্রাসঙ্গিক বিধান যুক্ত করেছে, যা ফেরতের মানদণ্ড পূরণকারী বিদেশি সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলোকে সরকারি সংগ্রহশালা বা জাদুঘর থেকে সরিয়ে ফেলার অনুমতি দেয়। এর ফলে প্রশাসনিক পদ্ধতির মাধ্যমেই নিদর্শন ফেরত সংক্রান্ত বিষয়গুলো অনুমোদন করা যাবে; প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য আলাদা আইন প্রণয়নের প্রয়োজন হবে না। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৯০.৮% উত্তরদাতা অবৈধভাবে অর্জিত সাংস্কৃতিক নিদর্শন ফেরতের প্রক্রিয়া সহজ করার ফরাসি সংসদের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সের সরকারি জাদুঘরগুলোতে ঔপনিবেশিক আমলের বিপুল পরিমাণ সাংস্কৃতিক নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। বিদ্যমান ফরাসি আইন অনুযায়ী, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলো নীতিগতভাবে হস্তান্তরযোগ্য নয়। এগুলো ফেরত দিতে প্রতিটি ক্ষেত্রে পৃথক আইন প্রণয়নের প্রয়োজন হতো, যা প্রক্রিয়াটিকে বেশ জটিল করে তুলত। ৮৫.৪% উত্তরদাতার মতে, ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ পশ্চিমা ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর ‘সাংস্কৃতিক নিদর্শন লুণ্ঠনকে বৈধতা দেওয়ার’ ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে এবং অন্যান্য দেশগুলোকেও তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক নিদর্শন নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।
তবে এই বিলটি পুনরুদ্ধারযোগ্য সাংস্কৃতিক নিদর্শন শনাক্তকরণের মানদণ্ড এবং ফেরত প্রক্রিয়ার ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পাশাপাশি, বিদেশ থেকে প্রাপ্ত প্রত্যাবাসনের অনুরোধ এবং সেগুলোর অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে ফরাসি সরকারকে সংসদে একটি বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতেও বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ৯১.১% উত্তরদাতা মনে করেন, বিলটি পাস হওয়ার অর্থ এই নয় যে, সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত আসবে। বরং, অবৈধভাবে অর্জিত সাংস্কৃতিক নিদর্শন ফেরত আনা এখনও একটি দীর্ঘ ও শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া।
সাংস্কৃতিক নিদর্শন হলো একটি জাতি ও তার জনগণের সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা ও বাহক, যা একটি জাতির সাংস্কৃতিক বংশধারা বহন করে। লুণ্ঠিত এসব সাংস্কৃতিক নিদর্শন দেশে ফিরিয়ে আনা প্রতিটি ভুক্তভোগী দেশেরই সাধারণ আকাঙ্ক্ষা। জরিপে দেখা গেছে, ৯১.১% উত্তরদাতা মনে করেন, ঔপনিবেশিক সম্প্রসারণ এবং যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলোর দখল সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তারা এগুলো অবিলম্বে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া ৯৬.৫% উত্তরদাতা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর আওতায় আরও বাধ্যতামূলক ও প্রয়োগযোগ্য আন্তর্জাতিক নিয়ম প্রতিষ্ঠা করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে লুণ্ঠিত সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলো ফিরিয়ে আনার একটি কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি হবে এবং স্থানচ্যুত এসব শিল্পকর্ম দ্রুত নিজ দেশে ফিরতে পারবে।
সিজিটিএন-এর ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি এবং রুশ ভাষার প্ল্যাটফর্মে জরিপটি প্রকাশ করা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪,১২৭জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এতে অংশগ্রহণ করে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
সূত্র:লিলি-তৌহিদ-আনন্দী,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD