অমর একুশে বইমেলা–২০২৬ এর উদ্বোধন ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতিষ্ঠিত যে গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে, সে সরকার দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে বদ্ধপরিকর।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বইমেলা শুধু বই কেনা–বেচার আয়োজন নয়; এটি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মননচর্চার এক ধারক–বাহক।”
জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। পরে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মেলা নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পর শুরু হলেও বইমেলার আবেদন কখনোই কমে না। এটি মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের চিরন্তন স্মারক।
বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “বই ছাড়া ঘর আত্মাহীন দেহের মতো।” তরুণ প্রজন্মের বইবিমুখতার প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলেন, “বিশ্বের ১০২টি দেশের মধ্যে পাঠাভ্যাসে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম—এই বাস্তবতা বদলাতে হবে।”
বাংলা একাডেমিকে আন্তর্জাতিক বইমেলা আয়োজনের বিষয়ে বিবেচনা করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি জাতিসংঘে বাংলাকে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
দেশব্যাপী বইমেলাকে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “পাঠচর্চার বিকাশ শুধু ঢাকা নয়, প্রতিটি জেলা–উপজেলায় পৌঁছে দিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকসহ কবি–সাহিত্যিকেরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।