জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ভার, জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাড়তি করের বোঝার প্রতিবাদে প্রতিবেশী ফ্রান্সের বিক্ষোভের ঢেউ এবার আছড়ে পড়েছে ইতালিতে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই দেশব্যাপী তীব্র গণবিক্ষোভ দ্রুত পুলিশের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও সহিংসতায় রূপ নেয়। দুই দিনের এই সংঘাতে অন্তত ১৪১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রবিবার পর্যন্ত দুই শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ইতালির সংবাদমাধ্যম স্কাই টিজি২৪-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার সহিংসতা চালানো, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বিনষ্টের অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার মধ্যে ১২ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরদিন রবিবার (১৮ অক্টোবর) দ্বিতীয় দফায় আরও ১৯৭ জনকে আটক করা হয় এবং তাদের মধ্যে ৪৩ জনকে ইতোমধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ ব্যানারে দেশটির প্রধান প্রধান শহরগুলোতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। পুলিশের পরিসংখ্যান মতে, মিলানে প্রায় ৫ হাজার, তুরিনে ৩ হাজার, বোলোনিয়ায় ২ হাজার, বেরগামোতে ৮০০ এবং ব্রেসিয়ায় ৬০০ মানুষ রাজপথ অবরোধ করেন। অর্থনৈতিক কেন্দ্র মিলানে বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, কাচের বোতল ও তীব্র আতশবাজি ছোড়া হয়। এমনকি সড়ক ব্যারিকেড উপড়ে ফেলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ওপর আক্রমণ চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ছোড়ে। এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে শহরের বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয় এবং সামরিক পুলিশ ‘কারাবিনিয়েরি’র একটি যান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মিলানের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘কনফেকমেরচিও’ জানিয়েছে, দুই দিনের সহিংসতায় বাণিজ্যিক খাতে অন্তত পাঁচ লাখ ইউরোর বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তুরিন শহরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং পেট্রলবোমা বহনের অপরাধে তিন অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বোলোনিয়া রেলস্টেশনের কাছে সংঘর্ষের পর আরও পাঁচ কিশোরকে আটক করে পুলিশ। সহিংসতার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশে থাকার প্রত্যয় জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। বিরোধীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বহু মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানালেও চরমপন্থীদের নৈরাজ্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি জানিয়েছেন, বিক্ষোভের নামে ক্ষতিসাধন করলে আয়োজকদের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায়ের বাধ্যবাধকতা রেখে তাঁর দল ‘লিগ’ সংসদে পুনরায় বিল উত্থাপন করবে। মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা ও বোলোনিয়ার মেয়র মাত্তেও লেপোরেও এ সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তরুণদের ধ্বংসাত্মক পথ পরিহারের তাগিদ দিয়েছেন।
সূত্র: বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ও ইতালির সংবাদমাধ্যম স্কাই টিজি২৪