চলতি বছর চীনের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা শুরু হচ্ছে এবং ক্যান্টন মেলার ৭০তম বার্ষিকী। বিগত ৭০ বছরে ক্যান্টন মেলার প্রদর্শনী এলাকা ৯৬০০ বর্গমিটার থেকে বেড়ে বর্তমানে ১৫.৫ লাখ বর্গমিটারে দাঁড়িয়েছে এবং ক্রেতার সংখ্যা ১২০০ থেকে বেড়ে ৩ লাখ ছাড়িয়েছে। এটি চীনে অনুষ্ঠিত দীর্ঘতম সময় ধরে চলা, বৃহত্তম পরিসরের, এবং সবচেয়ে সফল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এবারের ক্যান্টন মেলায় পাঠানো অভিনন্দনপত্রে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উল্লেখ করেন যে, ৭০ বছরে ক্যান্টন মেলা চীন ও অন্যান্য দেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রসারে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এটি চীনের জন্য উচ্চপর্যায়ের উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারণ ও একটি উন্মুক্ত বিশ্ব অর্থনীতি গড়ার কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে
এবারের মেলায় প্রথম পর্বের মূল বিষয়বস্তু হলো ‘উন্নত উৎপাদন’। এতে পাঁচটি প্রধান খাতের সর্বশেষ সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে: ইলেকট্রনিক্স ও গৃহস্থালী সরঞ্জাম, শিল্প উৎপাদন, আলোক ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, হার্ডওয়্যার যন্ত্রপাতি, এবং যানবাহন ও দুই চাকার যান। সার্ভিস রোবট জোনে মূর্ত বুদ্ধিমত্তা, বিশেষ অভিযান এবং জনসেবার মতো ক্ষেত্রগুলিতে অত্যাধুনিক পণ্য প্রদর্শন করা হয়।
বর্তমান ক্যান্টন মেলা বিশ্বের কাছে চীনকে পর্যবেক্ষণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্যান্টন মেলা বাস্তব বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি করে। বিগত ৭০ বছরে ক্যান্টন মেলায় মোট ১.৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের লেনদেন হয়েছে। চীন পণ্যবাণিজ্যে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম ভোক্তা-বাজার। চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে চীনের পণ্য আমদানি ও রপ্তানি ৩৯.৯৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.৮ শতাংশ বেশি। সম্প্রতি ভারতীয় ওয়েবসাইট ‘ইকোনমিক আপওয়ার্ড’-এর খবরে বলা হয়, ক্যান্টন মেলা ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে পণ্য সংগ্রহের বিকল্পগুলো মূল্যায়ন করতে, রপ্তানির সুযোগ অন্বেষণ করতে, এবং চীনের উৎপাদন শিল্পের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে জানতে একটি মূল্যবান সুযোগ প্রদান করে।
সূত্র: ছাই-আলিম-ওয়াং হাইমান,চায়না মিডিয়া গ্রুপ