মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও পুনর্মিলন প্রতিষ্ঠা চীনের মধ্যপ্রাচ্যনীতির ভিত্তি। চীন সব সময় মনে করে, ফিলিস্তিন সমস্যা এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার। আর ‘দুই-রাষ্ট্র সমাধান’ই ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানের সঠিক পথ।
১৫ অক্টোবর আজারবাইজানের বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধিবিষয়ক সম্মেলনের (সিআইসিএ) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
বৈঠকে হারজোগ বলেন, ইহুদি ও চীনা জাতির মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগের ইতিহাস রয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী যুদ্ধে দুই পক্ষ একে অপরকে সহায়তা করেছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব ইতিহাসের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে।
তিনি বলেন, ইসরায়েল দৃঢ়ভাবে এক-চীন নীতি অনুসরণ করে এবং চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৩৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং জনগণের পারস্পরিক যাতায়াতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী ইসরায়েল।
ওয়াং ই বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো গাজায় প্রবেশের সব পথ পুরোপুরি খুলে দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, ২০ লাখ বেসামরিক মানুষকে আর চরম সংকটে রাখা যায় না; মানবিক বিপর্যয়ও চলতে দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ করতে এবং ইতোমধ্যে নেওয়া এ ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাহার করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ওয়াং ই জোর দিয়ে বলেন, চীন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে অভিন্ন, সমন্বিত, সহযোগিতামূলক ও টেকসই নিরাপত্তার ধারণা অনুসরণ ও বাস্তবায়নে প্রস্তুত। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব সংলাপ ও আলোচনার পথে ফিরিয়ে আনা এবং সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চালানো হবে।
সূত্র: শুয়েই-ফয়সল-জিনিয়া,চায়না মিডিয়া গ্রুপ