ডাক বিভাগকে একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও আর্থিকভাবে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কার্যকরভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ‘বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের মাঝে ডাকসেবার প্রতি আস্থা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিশেষ করে পার্সেল পরিবহনে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ঠার সাথে কাজ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। তিনি জানান, আধুনিকায়নের প্রক্রিয়ায় থাকা বাংলাদেশের ডাক খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সরাসরি বিনিয়োগ করতে গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছেন; ফলে আগামীতে এ বিভাগের সেবার পরিধি, আয় ও সামগ্রিক সক্ষমতা আরও বাড়বে।
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে মন্ত্রী বলেন, নগদ বিক্রির কোনো ধরনের পরিকল্পনা এই মুহূর্তে সরকারের নেই। বরং প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও লাভজনক করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে তিনি জানান, প্রকল্পটি দ্রুত চালুর লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি পরমাণু বিশেষজ্ঞরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। যাবতীয় কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
কাজের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্বীকৃতির মাধ্যমেই কর্মীদের কাজের স্পৃহা বাড়ে। তাই যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদানের এই রীতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের প্রান্তিক ডাকঘর ও কর্মীদের শ্রমকে যথাযথ মূল্যায়নের নির্দেশ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, দেশব্যাপী বিস্তৃত বিদ্যমান শক্তিশালী পোস্ট অফিস নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে একটি প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সেবা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্রের সাথে সমন্বয় এবং ডাক বিভাগের ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডাকসেবার বহুমুখী প্রচার বাড়ানোর তাগিদ দেন।
এ বছর বিশ্ব ডাক দিবসের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—“One Postal Network, Infinite Possibilities” অর্থাৎ “সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা”। গত ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস উদযাপনের ধারাবাহিকতায় ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ পালিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রতিপাদ্যভিত্তিক বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করা হয়।
ডাকসেবা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে রাজধানীসহ দেশজুড়ে চিঠি উৎসব, ফিলাটেলিক প্রদর্শনী, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে দেশের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এবং কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ মোট ২৬টি স্থানে চিঠি উৎসব ও ডাকসেবা মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তরুণ প্রজন্মকে চিঠি লেখায় উদ্বুদ্ধ করতে আয়োজিত এসব উৎসবে প্রায় ৪ হাজার ৬৪৩টি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় মোট ২৯ জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে রচনা ও চিত্রাঙ্কনে বিজয়ী ৫ জন শিক্ষার্থী, ৫৫তম আন্তর্জাতিক পত্রলিখন প্রতিযোগিতার ৩ জন বিজয়ী, পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের জন্য ৪ জন কর্মচারী, লেটার পোস্ট সেবায় ৬ জন কর্মচারী, ডাকসেবার মানোন্নয়নে ৫ জন কর্মকর্তা এবং ‘নগদ’-এর ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও সেবা ক্যাটাগরিতে অনন্য ভূমিকার জন্য ৬ জন প্রতিনিধিকে বিশেষ পুরস্কার ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
সূত্র: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জনসংযোগ শাখা।