ছবির সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস)
ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি বর্তমান রূপেই অব্যাহত রাখা হবে, নাকি নতুন শর্তে নবায়ন করা হবে—সে বিষয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। তবে চুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মেগা প্রকল্প ‘পদ্মা ব্যারাজ’-এর নির্মাণকাজ আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠকে পানিসম্পদ খাতের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনাকালে এসব তথ্য উঠে আসে। বৈঠকে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি, বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং পদ্মা ব্যারাজসহ দেশব্যাপী চলমান নদী শাসন ও সংরক্ষণ প্রকল্পগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, ভারতের সঙ্গে বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্কের উষ্ণতা কিছুটা কমে গেলেও গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও যৌথ প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গঙ্গা চুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় ও ভৌগোলিক স্বার্থ গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি বা নতুন আঙ্গিকে নবায়নের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও সার্বিক আইনি ও কারিগরি পর্যালোচনা থেমে নেই। এ ছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন এবং নেদারল্যান্ডস উভয় দেশই প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রদানে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের রূপরেখা তুলে ধরে জানানো হয়, প্রকল্পটি দুই ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপের বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে সাত বছর, যা শেষ হলে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের দীর্ঘদিনের ভূগর্ভস্থ ও ভূউপরিস্থ তীব্র পানিসংকট নিরসনে কার্যকর সুফল মিলবে। খুলনা অঞ্চলের মিঠাপানির প্রাপ্যতা ও লবণাক্ততা সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবে দ্বিতীয় ধাপ, যার সময়সীমা পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন গতি পর্যালোচনায় আগামী ২৫ অক্টোবর কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে পাবনার সুজানগরে প্রস্তাবিত ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শন করবেন।
এ ছাড়া বৈঠকে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জামালপুর জেলার ব্রহ্মপুত্র ও জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন প্রতিরোধ এবং যমুনার বাঁ তীর, পুরোনো ব্রহ্মপুত্র ও আলাই নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প। রাজশাহী ও নাটোর জেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত বারনই নদী পুনঃখনন, দূষণমুক্ত ও অবৈধ দখলমুক্তকরণ প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।
সীমান্ত সুরক্ষার অংশ হিসেবে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নাফ নদীসংলগ্ন ৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি ও ৬৮ নম্বর পোল্ডার পুনর্বাসনের দ্বিতীয় সংশোধিত কার্যক্রম এবং ঐতিহ্যবাহী গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন কাজের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু, মাজহারুল ইসলাম, ফরিদুল কবীর তালুকদার, ইজ্জত উল্লাহ, অলি উল্লাহ ও মশিউর রহমান খান।
সংবাদের সূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।