পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতি থেকে সমুদ্রপথে ইয়েমেন যাওয়ার সময় অভিবাসীবাহী একটি বিশালাকার নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৮৪ জন আরোহী। নারী ও শিশুসহ নৌকাটিতে সর্বমোট ৩০৫ জন যাত্রী ছিলেন। রোববার (১১ অক্টোবর) জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইওএমের বরাতে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর দিবাগত রাত অথবা ৯ অক্টোবরের প্রথম প্রহরে জিবুতির ওবক বন্দরের উত্তরাঞ্চলীয় গুহেরে উপকূলের কাছে অতিরিক্ত বোঝাই নৌকাটি উল্টে গিয়ে সাগরে নিমজ্জিত হয়। উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৫টি নিষ্পাপ শিশুর মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই তাৎক্ষণিক তৎপরতা চালিয়ে ৮২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা।
সমুদ্রে নিখোঁজ থাকা অবশিষ্ট ৮৪ জন যাত্রীর সন্ধানে জিবুতি কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। উদ্ধার হওয়া ৮২ জন জীবিত ব্যক্তিকে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা এবং খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে আইওএম ও স্থানীয় ত্রাণকর্মীরা।
কাজের সন্ধান ও একটু উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবছর হর্ন অব আফ্রিকার হাজার হাজার অভিবাসী অত্যন্ত বিপজ্জনক এই সামুদ্রিক করিডোর বেছে নেন। জিবুতি উপকূল পার হয়ে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে সংঘাতবিক্ষুব্ধ ইয়েমেনে প্রবেশ করা এবং সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোতে পৌঁছানোই তাঁদের মূল লক্ষ্য থাকে। তবে চরম জীবনের ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের বেপরোয়া দৌরাত্ম্য এবং সাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রায় নিয়মিতই এমন মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে চলেছে।
জাতিসংঘের সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী এই অভিবাসন রুটে কেবল বিগত ২০২৫ সালেই নৌকাডুবি ও নানাবিধ সামুদ্রিক দুর্ঘটনায় ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন অথবা চিরতরে নিখোঁজ হয়ে গেছেন।
সূত্র: আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘ।