১৪ অক্টোবর: ১৩ অক্টোবর বিকেলে বেইজিংয়ের গণমহাভবনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে চীন সফররত টোগোর মন্ত্রীপরিষদের সভাপতি ফোরে এসোজিমনা নাসিংবে বৈঠক করেছে
বৈঠকে দুই দেশের নেতারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন যুগে চীন ও টোগোর অভিন্ন কল্যাণের সমাজ হিসেবে উন্নীত করার ঘোষণা দেন।
আফ্রিকার বিভিন্ন সংকটপূর্ণ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের গঠনমূলক অংশগ্রহণের বিষয়ে সি চিন পিং চারটি নীতি তুলে ধরেন।
প্রথমত, আফ্রিকার নেতৃত্বকে সম্মান করতে হবে। আফ্রিকার জনগণই আফ্রিকার প্রকৃত মালিক। আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে তাদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করা উচিত।
দ্বিতীয়ত, ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উচিত জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতি মেনে চলা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানো।
তৃতীয়ত, যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। যুদ্ধ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যকার বিরোধের প্রকৃত সমাধান সম্ভব নয়। পারস্পরিক সম্মান, ব্যাপক আলোচনা, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও অভিন্ন বিষয় খুঁজে বের করা এবং একে অপরের প্রতি সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে।
চতুর্থত, সমস্যার তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি—উভয় ধরনের সমাধান করতে হবে। একদিকে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে হবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পরিকল্পনাও করতে হবে।
ফোরে এসোজিমনা নাসিংবে বলেন, টোগো চীনের রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়নের অভিজ্ঞতা আরও গভীরভাবে অধ্যয়ন করতে এবং তা থেকে শিক্ষা নিতে আগ্রহী। তিনি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে টোগোতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে স্বাগত জানান।
পাশাপাশি বাণিজ্য, অবকাঠামো নির্মাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
ফোরে আরও বলেন, আফ্রিকার বিভিন্ন সংকটপূর্ণ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর গঠনমূলক অংশগ্রহণ সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলোর সঙ্গে টোগো সম্পূর্ণ একমত। বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারও উচ্চ প্রশংসা করেন তিনি।
সূত্র: শুয়েই-ফয়সল-জিনিয়া,চায়না মিডিয়া গ্রুপ