হাজারো বিক্ষোভকারীকে আটক ও দিনভর পুলিশি সংঘাত সত্ত্বেও ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তর অভিমুখে প্রতিদিন লং মার্চ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও সমমনা অন্যান্য যুব সংগঠন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, পুলিশের দমন-পীড়নে তাঁরা বিন্দুমাত্র বিচলিত নন; সিইসি পদত্যাগ বা বরখাস্ত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রতিদিন অব্যাহত থাকবে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের একদফা দাবিতে শনিবার দিল্লির কেন্দ্রস্থল যন্তর মন্তরে গণসমাবেশের ডাক দেয় সিজেপি। কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে আটক হন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ি বিজয়ন। দীর্ঘ নাটকীয়তা শেষে পরবর্তীতে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।
এর আগে সকালে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আন্দোলনরত দলগুলো এই পদক্ষেপকে ‘নিরপরাধ তরুণদের ওপর নৃশংস নির্যাতন’ আখ্যা দিয়েছে। এদিকে দীপকে এখনো মুক্তি না পাওয়ায় তাঁর অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন সিজেপি নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরের দিকে যাত্রা থামবে না।
আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়ে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য সর্বাত্মক ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, “রোববার থেকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে। সব জায়গায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলবে। পুলিশ যেখানেই ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকাবে, সেই স্থানটিই এক একটি ‘যন্তর মন্তরে’ রূপ নেবে।”
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইনডিয়া’ (INDIA) জোটের পক্ষ থেকে আগামী সোমবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ওই দিন সুপ্রিম কোর্টে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিরোধীদের পক্ষ থেকে একটি যৌথ স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
শনিবার সকাল থেকেই সিজেপির শীর্ষ নেতাসহ সহস্রাধিক মানুষকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে পুরো রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করে কার্যত অবরুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি দেড় সহস্রাধিক মানুষকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিলেও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির সংখ্যা অন্তত ৬ হাজার ছাড়িয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দিতে চেন্নাইয়ে অবস্থানরত রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “সব নেতাকে গ্রেপ্তার করুন। সব তরুণকে গ্রেপ্তার করুন। আমাদের সবাইকেই গ্রেপ্তার করুন। আমরা আপনাদের ঘিরে ফেলছি, আর পেছনে ফিরব না। আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য আগেই আমরা পেয়ে গেছি। ভারতের তরুণ সমাজ, আমি তোমাদের জন্য গর্বিত। প্রতিবাদ চালিয়ে যাও, আমরা তোমাদের পাশে আছি।”
এদিকে বিরোধীদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ভেস্তে দেওয়াকে ‘জনগণের জয়’ বলে আখ্যায়িত করেছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কর্মসূচি ঘিরে ধরপাকড়কে যৌক্তিক দাবি করে বিজেপির জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র রবি শঙ্কর প্রসাদ বিরোধী দল ও রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ভারত কোনো ‘ব্যানানা রিপাবলিক’ নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই দেশ কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।”
সূত্র: এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও ভারতীয় গণমাধ্যম।