জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা, জনআকাঙ্ক্ষা ও জনপ্রত্যাশাকে ধারণ করে বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, মানবিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য শৃঙ্খলাভঙ্গ, অপেশাদার আচরণ কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি প্রচলিত ফৌজদারি আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর পদক প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বিপিএম। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পদক কেবল কৃতিত্বের স্বীকৃতি নয়; এর সঙ্গে দেশ ও জনগণের প্রতি দায়িত্বও বহুগুণ বেড়ে যায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের সময়ে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সাত মাসে প্রাতিষ্ঠানিক, আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে পুলিশের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং জনআস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষের আস্থা। জনগণের আস্থা ছাড়া কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার এমন একটি পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চায়, যা দক্ষতা ও পেশাদারিত্বে আধুনিক, প্রযুক্তিতে সক্ষম, আচরণে মানবিক, আইন প্রয়োগে দৃঢ়, দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ এবং জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হবে। তিনি এটিকে শুধু বক্তব্য হিসেবে না দেখে গভীরভাবে ধারণ করে সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আইনি সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনআকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় নিয়ে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড বজায় রেখে র্যাবসহ (বর্তমানে এসআরবি) বিভিন্ন সংস্থার সংস্কার ও আইনি কাঠামোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) আরও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়ন এবং ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োজনীয় তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা, প্রশংসনীয় ও কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন এবং জনসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ৯২ জন কৃতি সদস্যের হাতে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ‘বিপিএম-সেবা’, ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ ও ‘পিপিএম-সেবা’ তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।