সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু হিসেবে নয়, দেশের সব নাগরিককে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সবচেয়ে গর্বের পরিচয়—তারা সবাই বাংলাদেশি।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে দীর্ঘদিন কংসের মতো নিষ্ঠুর শাসক এ দেশের মানুষের কাঁধে চেপে বসেছিল। হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে জনগণ সেই ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়েছে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের পাশাপাশি এখন দেশের পুনর্গঠনের পালা। তবে দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কেউ কেউ নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে উসকে দেওয়ারও চেষ্টা করা হচ্ছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই দেশ সবার। নাগরিক হিসেবে এ দেশের প্রত্যেক মানুষের অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ও বিএনপি বিশ্বাস করে—‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। ধর্মীয় বিশ্বাস আলাদা হলেও নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার সমান।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি না করে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে হবে। রাষ্ট্রের কাছে কোনো নাগরিকের অধিকার কম বা বেশি নয়; প্রত্যেকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
এর আগে সকাল ১০টায় শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে তিনি নয়জন সেবায়েত ও পুরোহিতের হাতে ভাতার অর্থ তুলে দেন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ৬৪ জন সেবায়েত ও পুরোহিতকে ভাতা দেওয়া হয়।