বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ‘ভিসা বন্ড’ সংক্রান্ত ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে তা সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার সকালে বঙ্গভবনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী ও বাণিজ্য অংশীদার। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান এবং সমতার নীতিকে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এসব ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে উভয় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও স্বার্থ বিবেচনা করে চুক্তিটিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ এবং উভয় পক্ষের জন্য অধিক লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি একই সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা সহজ করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি তাদের নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহযোগিতা কামনা করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতা ও ভূমিকা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
সূত্র: রাষ্ট্রপতির কার্যালয়