জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর অগসবার্গের একটি ট্রেন স্টেশনে আকস্মিক বিস্ফোরণে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর স্টেশন ভবন ও এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য রেললাইনে চলাচলকারী ট্রেনের গতিপথও পরিবর্তন করা হয়েছে।
বুধবার আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। অগসবার্গ পুলিশের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জার্মানির দৈনিক বিল্ড জানিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় স্টেশনের কয়েকটি জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে স্থানীয় গণপরিবহন ব্যবস্থাতেও সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটে।
বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার ধরন ও সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধানে বাভারিয়ান স্টেট ক্রিমিনাল পুলিশ অফিসের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।
এদিকে জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যে কোলোনের কাছে বার্গহাইমের রাইডট এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থা আমপ্রিয়ন-এর একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে নাশকতামূলক হামলার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের এক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি নিছক কোনো কারিগরি ত্রুটির ফল নয়; বরং এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে।
আমপ্রিয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবারের ওই ঘটনায় বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে অগসবার্গের বিস্ফোরণের সঙ্গে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, কিংবা এর সঙ্গে জার্মানির ব্রান্ডেনবুর্গে সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ব্রান্ডেনবুর্গের ইয়েনশভাল্ডে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে অতিরিক্ত উচ্চ-ভোল্টেজ সঞ্চালন লাইনে নাশকতার ঘটনা ঘটে। ব্রান্ডেনবুর্গের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ান রেডম্যান জানান, আতশবাজি বা কোনো ধরনের প্রক্ষেপণযন্ত্র ব্যবহার করে সেখানে শর্ট সার্কিট সৃষ্টি করা হয়েছিল। এর ফলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনটি সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
একই সময়ে অগসবার্গের ট্রেন স্টেশনে বিস্ফোরণ এবং নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ায় বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে নাশকতার অভিযোগ—দুটি ঘটনাই জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ জনপরিবহন ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণ ও নাশকতার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।