শিরোনাম :
দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে অস্ত্র হাতে যুদ্ধে অংশ নেওয়া একমাত্র প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ, স্থানীয় সরকার খাতে সহযোগিতায় আগ্রহ ভারতে প্রযুক্তি নয়, দক্ষ ও সমন্বিত জনসেবাই ডিজিটাল রূপান্তরের মূল লক্ষ্য: আইসিটি মন্ত্রী দুর্গম সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি সহজ করবে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে ফ্রাংকফুর্টে ‘প্রবাসী টাঙ্গাইল’ – এর নতুন কমিটি গঙ্গা চুক্তি নবায়নে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ রক্ষার দাবি ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে দ্রুত বিধিমালা: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আছে, মুসলিম বিশ্বের জন্যও অবদান রাখতে চাই : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ‘স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না’: রাষ্ট্রপতি

দুর্গম সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি সহজ করবে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার দুর্গম ও বনাঞ্চলবেষ্টিত এলাকাসহ দেশের সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও কার্যকর ও সহজতর করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সিলেট সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (SSSDW)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বিশেষায়িত এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তের দুর্গম ও বনাঞ্চলবেষ্টিত এমন অনেক এলাকা রয়েছে, যেখানে সরেজমিনে জনবল মোতায়েন করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন। এসব এলাকায় নাইট ভিশন ও থার্মাল প্রযুক্তিসংবলিত ড্রোন ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক আধুনিক ডিজিটাল নজরদারি পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, থার্মাল প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে রাতের অন্ধকারেও সীমান্তের ওপারে অপর পক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র পাচারের সম্ভাব্য রুট শনাক্ত করে তা প্রতিহত করাও সহজ হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও মানবিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও ড্রোনের এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং দুর্গম স্থানে সরাসরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে বিজিবি সদস্যরা সফলভাবে ড্রোন ব্যবহার করেছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে SSSDW-তে বিজিবি সদস্যদের সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন ওয়ারফেয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করে বেসামরিক জনবলকেও উন্নত প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তিগুলো এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাদক মামলার প্রসিকিউশন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে যুগোপযোগী করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে ল্যাবরেটরি, হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক অস্ত্র সংযোজনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে ‘মব’ তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা প্রচলিত আইনের আওতায় অত্যন্ত কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিবির সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন।

উদ্বোধনের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’-এর বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সার্বিক কার্যক্রম ও পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়। উদ্বোধনের পর তিনি ড্রোন স্কুল কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার পরিদর্শন করেন।

পরে বিজিবির দক্ষ পরিচালনায় একটি বাস্তবভিত্তিক অপারেশনাল মহড়া ও ডাইনামিক ড্রোন ডিসপ্লে প্রত্যক্ষ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিসক্ষম করার লক্ষ্যেই বিজিবির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ স্কুল হিসেবে SSSDW-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রটি চালুর মাধ্যমে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে আধুনিক আকাশভিত্তিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।

সূত্র: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD