শিরোনাম :
ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৯ বাংলাদেশি ‘একসময় মধ্যপ্রাচ্যে’ সিনেমার বক্স অফিসে দ্রুত উত্থান ৫০০টি শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণের পথে চীন ওয়াশিংটন-অটোয়া সমঝোতার আভাস, কানাডার পণ্যে শুল্ক স্থগিত জার্মানিতে অভিবাসন বিরোধ, নর্ড স্ট্রিম তদন্ত, রাইনে নাব্য সংকট ও চরম আবহাওয়ার সতর্কতা ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট, বৃহস্পতিবার মুখোমুখি মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৩ জনের, আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে নেওয়ার উদ্যোগ লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি, আগস্টে প্রত্যাবাসন ৫১৪ পাঁচ মাস পর নতুন কমিশন পেল দুদক

৫০০টি শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণের পথে চীন

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

১৮ আগস্ট চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি “জাতীয় পর্যায়ে শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণের আয়োজন ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি” জারি করেছে, যেখানে জাতীয় পর্যায়ে শূন্য-কার্বন কারখানা (শূন্য-কার্বন কম্পিউটিং সুবিধাসহ) নির্মাণের জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

শূন্য-কার্বন কারখানা কী? ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্বন নিউট্রালিটি ইনস্টিটিউটের ডিন হ্য খ্য পিন বলেন, একটি শূন্য-কার্বন কারখানা মানে একেবারে “শূন্য” কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন নয় বরং এর মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, কাঠামোগত সমন্বয় এবং ব্যবস্থাপনার সর্বোত্তমকরণের মতো পদ্ধতিগত নির্গমন হ্রাসকারী পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্গমন হ্রাসের সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণরূপে কাজে লাগানো। বর্তমানে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে, এর লক্ষ্য হলো কারখানার সর্বনিম্ন সম্ভাব্য কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন বজায় রেখে, সর্বোচ্চ নির্গমন হ্রাস এবং ক্রমাগত উন্নতি অর্জন করা।

শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণে শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরীক্ষামূলকভাবে পথনির্দেশনা দেওয়ার জন্য, পাঁচটি বিভাগের যৌথভাবে জারি করা নির্দেশনামূলক মতামত থেকে শুরু করে, ‘শূন্য-কার্বন কারখানা ও শিল্প পার্ক নির্মাণ’-এর প্রস্তাবনাসম্বলিত ‘পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’ এবং তারপরে ৫০০টি শূন্য-কার্বন কারখানার উন্নয়ন ও নির্মাণের সুস্পষ্ট উল্লেখসম্বলিত ‘শিল্পের সবুজ ও স্বল্প-কার্বন উন্নয়নের জন্য পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’ পর্যন্ত—এই বছর ধারাবাহিক নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণের কাজকে ক্রমাগতভাবে উত্সাহিত করছে।

এই বিজ্ঞপ্তিটি শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণকে শীর্ষ-পর্যায়ের নকশা পর্যায় থেকে পূর্ণ বাস্তবায়নে উত্তরণের সূচনা করে। শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের শক্তি সংরক্ষণ ও সমন্বিত ব্যবহার বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, “বিজ্ঞপ্তিটি একটি পর্যায়ক্রমিক ও স্তরভিত্তিক উন্নয়ন-পদ্ধতি অনুসরণ করে, নির্মাণের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভিত্তি, সুস্পষ্ট নির্মাণ লক্ষ্য এবং একটি সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন পথসহ উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং কম্পিউটিং সুবিধাগুলোকে নির্বাচন করে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের নির্মাণ লক্ষ্যগুলো সম্পন্ন করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে। এগুলোকে মানদণ্ড হিসেবে কাজ করার জন্য জাতীয়-স্তরের শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণ তালিকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”

একটি শূন্য-কার্বন কারখানা দেখতে কেমন হবে? বিজ্ঞপ্তিটিতে তিনটি মূল সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে: প্রতি ইউনিট শক্তি ব্যবহারে কার্বন নির্গমন; জীবাশ্ম-বহির্ভূত শক্তি ব্যবহারের অনুপাত; এবং ভৌতভাবে যাচাইকৃত জীবাশ্ম-বহির্ভূত শক্তি থেকে বিদ্যুতের ব্যবহারের অনুপাত।

তা ছাড়া, এই তিনটি মূল সূচকই শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণের সম্পূর্ণতা নয়। একটি কারখানা জাতীয় পর্যায়ের শূন্য-কার্বন কারখানা হতে পারবে কি না, তার জন্য নির্মাণ কার্যকারিতা, কর্মপন্থার যৌক্তিকতা, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, ব্যবস্থাপনার মানসম্মতকরণ এবং চালিকাশক্তির মতো বিষয়গুলোর একটি ব্যাপক মূল্যায়ন প্রয়োজন।

শূন্য-কার্বন কারখানা কীভাবে নির্মাণ করা উচিত? বিজ্ঞপ্তিটি একটি মূল্যায়ন সূচক পদ্ধতিকে নির্দেশিকা হিসেবে ব্যবহার করে, যা বৈজ্ঞানিক কার্বন গণনা, উত্স থেকে কার্বন হ্রাস, প্রক্রিয়াগত কার্বনমুক্তকরণ, সম্মিলিত কার্বন হ্রাস, এবং বুদ্ধিদীপ্ত কার্বন নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক দিক থেকে একটি বাস্তবায়ন পথের রূপরেখা দেয়।

শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণের জন্য সম্মিলিত কার্বন হ্রাস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক। চায়নিজ ইনস্টিটিউট অফ ইলেকট্রনিক্স-এর ডেপুটি সেক্রেটারি-জেনারেল ছাও শুয়েছিন জানান, কম্পিউটিং পাওয়ার ফ্যাসিলিটিগুলো চীনের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান শক্তি-ব্যবহারকারী খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম। ২০২৫ সালের মধ্যে কম্পিউটিং পাওয়ার ফ্যাসিলিটিগুলোর জন্য বিদ্যুতের খরচ মোট সামাজিক বিদ্যুতের খরচের প্রায় ১.৬% হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

শূন্য-কার্বন কারখানা তৈরির মূল পথ হলো বুদ্ধিমান কার্বন নিয়ন্ত্রণ। বিজ্ঞপ্তিতে একটি ডিজিটাল শক্তি ও কার্বন ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ ও পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে; এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট, ইন্টারনেট অফ থিংস, বিগ ডেটা ও ব্লকচেইনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

নির্মাণের মান কীভাবে নিশ্চিত করা যায়? বিজ্ঞপ্তিতে “নির্মাণ পরিকল্পনায় সময়োপযোগী সমন্বয় ও উন্নতি”, “একটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা” এবং “নির্মাণের অগ্রগতির সময়োপযোগী পর্যবেক্ষণ”-এর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণে এককালীন মূল্যায়ন ও সার্টিফিকেশনের পরিবর্তে, প্রযুক্তি, নির্মাণ এবং কার্যকারিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সূত্র: লিলি-আলিম-সুবর্ণা,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD