শিরোনাম :
সিসিলির জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের ‘অমূল্য’ চার চিত্রকর্ম চুরি দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি চীনের আধুনিকায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: সি চিন পিং ডারউইন জয় বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন পরিচয়, প্রশংসায় সাবেক তারকা ও বিশ্লেষকরা রাজধানীতে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ চালু বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি আজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময় সেপ্টেম্বরে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভূমধ্যসাগরে ১১ দিন ভেসে থাকার পর নৌকায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু, ৯ জনই বাংলাদেশি কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২৯৪, নিখোঁজ ৩২০ পরিবেশ সুরক্ষা ও উন্নয়নের ভারসাম্যে চীনের সাফল্যের প্রশংসায় জাতিসংঘ ফিল্ডস পদক চীনের বিশ্বমানের গণিত গবেষণার প্রমাণ: মার্টিন হেয়ার

ভূমধ্যসাগরে ১১ দিন ভেসে থাকার পর নৌকায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু, ৯ জনই বাংলাদেশি

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথে খাবার ও পানি ছাড়াই প্রায় ১১ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর একটি নৌকায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি বলে জানিয়েছেন নৌকাটি থেকে বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশি নাগরিক। তবে মিশরের পুলিশ এখনো সাগরে মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করার মতো কোনো তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।

মিশরের মারসা মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আবদুল করিমের দেওয়া তথ্যের বরাতে বিষয়টি জানিয়েছেন কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, আবদুল করিম সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।

আবদুল করিমের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে একটি নৌকায় মোট ৪২ জন যাত্রী যাত্রা করেন। তাদের মধ্যে ৩৮ জন বাংলাদেশি এবং চারজন সুদানের নাগরিক ছিলেন। ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর পর নৌকাটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। একই সঙ্গে নৌকাটির জ্বালানিও শেষ হয়ে যায়। এরপর যাত্রীরা কোনো খাবার ও পর্যাপ্ত পানি ছাড়াই দীর্ঘ সময় সাগরে ভাসতে থাকেন।

প্রায় ১১ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। স্থানীয় লোকজন নৌকাটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে সেখান থেকে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করে দুটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উদ্ধার হওয়া অনেক যাত্রী তখন অচেতন অবস্থায় ছিলেন। বর্তমানে তারা পুলিশের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দূতাবাসকে আবদুল করিম জানান, নৌকাটিতে খাবার ও পানি না থাকা এবং প্রচণ্ড গরমের কারণে যাত্রীদের মধ্যে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে, পরে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দিতে হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেও আবদুল করিম একই তথ্য জানিয়েছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, নৌকাটিতে সর্বোচ্চ ২৫ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা ছিল। কিন্তু সেখানে ৪২ জনকে তোলা হয়েছিল। নৌকাটিতে মাত্র একটি ইঞ্জিন ছিল। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের পাশাপাশি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়া এবং জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন।

দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থানের কারণে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের শারীরিক অবস্থাও গুরুতর বলে জানিয়েছেন করিম। তার ভাষ্য, লবণাক্ত পানিতে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে যাত্রীদের শরীরের বিভিন্ন অংশ পচতে শুরু করেছে। উদ্ধার হওয়ার পর তাদের অনেককে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, মিশরের পুলিশ এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করার মতো কোনো তথ্য পায়নি। ঘটনার প্রকৃত অবস্থা জানতে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য দূতাবাস কর্তৃপক্ষ মিশরীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়েছে। সেই অনুমতি পাওয়া গেলে নৌকাটিতে কতজন মারা গেছেন এবং তাদের পরিচয় সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে বলে আশা করছে দূতাবাস।

এদিকে, সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার অন্তত পাঁচ যুবকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন পাগলা শত্রুমর্দান গ্রামের হৃদয় পাল, চিকরকান্দি গ্রামের এনামুল খান, রিপন মিয়া ও মামুন খান এবং রানসি গ্রামের মো. তালহা।

হৃদয় পালের চাচা কানন পাল জানান, গত ৩১ জুলাই সর্বশেষ হৃদয়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তখন হৃদয় তাকে জানিয়েছিলেন, ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। ওই দিন লিবিয়া থেকে দুটি নৌকা ছেড়ে যায়। পরে প্রথম নৌকার এক যাত্রী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, হৃদয় দ্বিতীয় নৌকায় ছিলেন। এরপর থেকে হৃদয়ের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার বিষয়ে এখনো মিশরীয় পুলিশের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য না থাকায় নৌকাটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ও নিহতদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি নিশ্চিত করতে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করছে।

সূত্র: কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থানীয় সূত্র।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD