যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সুইজারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক শহর জেনেভায় পালিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মব্যস্ততা ও দৈনন্দিন কাজের চাপ উপেক্ষা করে শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে জেনেভার প্রাণকেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারীরা অংশ নেন।

International Forum for Secular Bangladesh (Switzerland Chapter)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত শোক সভায় সংগঠনের সভাপতি রহমান খলিলুর মামুন সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পলাশ বড়ুয়া।
শোক সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেন Global Center for Democratic Governance-এর সভাপতি প্রফেসর ডা. হাবিবে মিল্লাত। বক্তব্যে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশপ্রেম, রাজনৈতিক জীবন, নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এ সময় তিনি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি তার পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।
বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জেনেভার প্রবীণ আওয়ামী লীগ ব্যক্তিত্ব আবদুর রব এবং International Forum for Secular Bangladesh-এর উপদেষ্টা জমাদার নজরুল ইসলাম। তাঁরা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রগঠনে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত তাঁর পরিবারের সদস্যসহ সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য দেন সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মশিউর রহমান সুমন, সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম খান দুলাল, উপদেষ্টা অরুণ বড়ুয়া, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক জাভেদ, স্বপন হাওলাদার, শামীম সিকদার, জাতীয় শ্রমিক লীগ সুইজারল্যান্ড শাখার সভাপতি আবদুর রব খাদেম এবং সাংবাদিক সেলিম মিয়া।

বক্তারা বঙ্গবন্ধুর জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাঁর নেতৃত্ব এবং বাঙালির জাতীয় পরিচয় নির্মাণে তাঁর অবদান স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্ট নিহত সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
পরে উপস্থিত নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর মধ্য দিয়ে জেনেভায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।