শিরোনাম :
৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট, বৃহস্পতিবার মুখোমুখি মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৩ জনের, আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে নেওয়ার উদ্যোগ লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি, আগস্টে প্রত্যাবাসন ৫১৪ পাঁচ মাস পর নতুন কমিশন পেল দুদক নবম জাতীয় বেতন স্কেল: সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির চূড়ান্ত সুপারিশ জেনেভায় গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যে বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত শিল্প ও পরিবহনে নতুন চাপের মধ্যে জার্মানি, অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির আশা ও AI নিয়ে বাড়ছে প্রস্তুতি সিসিলির জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের ‘অমূল্য’ চার চিত্রকর্ম চুরি দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি চীনের আধুনিকায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: সি চিন পিং

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট, বৃহস্পতিবার মুখোমুখি মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্রার্থীর কেউই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে তফসিল অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে ভোট হতে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বিপরীতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হয়েছেন অলি আহমদ। বৃহস্পতিবার এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই ভোটের লড়াই অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর কেউই মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। ফলে তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণের আর কোনো বাধা নেই।

এ সময় ইসি সচিব বৃহস্পতিবারের ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি এবং ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিস্তারিত অবহিত করেন।

ইসি সচিব জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। ভোটের ব্যালট পেপার মঙ্গলবারই প্রস্তুত করা হবে। ভোট গ্রহণের দিন শুরুতে নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে নির্দেশনা দেবেন।

রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এরপর সাতজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থী থাকায় বিরোধী দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে প্রায় সাড়ে তিন দশক পর আবারও রাষ্ট্রপতি পদে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এই নির্বাচনে দেশের সাধারণ ভোটাররা ভোট দেবেন না; ভোটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংসদ সদস্যরা। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে রাজনৈতিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্য সংখ্যা ৯০ জন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে। একটি থাকবে মুড়ি অংশ এবং অন্যটি মূল ব্যালট পেপার। মুড়ি অংশে ভোটারের ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম এবং বিভক্তি নম্বর—এই তিনটি তথ্য থাকবে।

সংসদ সদস্যরা পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন। মূল ব্যালট পেপারের ডান পাশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী সাজানো থাকবে। প্রার্থীদের নামের ডান পাশে নির্ধারিত খালি জায়গায় সংসদ সদস্যরা পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপর ব্যালট পেপার নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।

বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে। ইসি সচিব জানান, ব্যালট পেপারের রং হবে সাদার ওপর কালো প্রিন্ট।

সংরক্ষিত নারী আসনসহ জাতীয় সংসদে মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০। তবে বিএনপির সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর সদস্যপদ আদালতের মাধ্যমে বাতিল হওয়ায় এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যে।

ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর সংসদ কক্ষেই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্যপদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।

তবে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় সাংবিধানিক ও নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী ২০ আগস্ট ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। সেই সাংবিধানিক সময়সীমা মেনেই এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন।

সূত্র: নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD