বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তা জোরদারে আরও ২৫ দশমিক ২৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আশ্রয় ও জীবিকা সহায়তাসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
সোমবার বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) যৌথভাবে এ সহায়তার ঘোষণা দেয়।
এ উপলক্ষে ঢাকার পদ্মা স্টেট গেস্ট হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অর্থায়ন-সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং ইউএনএইচসিআরের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকেইসোনি।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল উপস্থিত ছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে আসছে তাঁর দেশ। বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক প্রয়োজন পূরণ এবং আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ কমাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।
তিনি জানান, নতুন এই অর্থায়ন মিয়ানমার ও বাংলাদেশে চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়ার তিন বছর মেয়াদি ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সহায়তা কর্মসূচির অংশ। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারেরও বেশি মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে।
এই সহায়তার আওতায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয় এবং জীবিকা উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রমও শক্তিশালী করা হবে বলে জানানো হয়।
বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠী কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে বৈশ্বিক মানবিক তহবিলে ঘাটতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থায়ন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ার নতুন সহায়তা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সূত্র: অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ইউএনএইচসিআর।